বাংলাদেশের দ্রুতগতির পেসার টাসকিন আহমেদ পাকিস্তান বিপরীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওডিআই সিরিজে খেলতে সক্ষম বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজিত একদিনের প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)‑এ অংশগ্রহণ না করলেও সিরিজের জন্য তার ফিটনেসে কোনো বাধা নেই। এই তথ্যটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী সোমবার ক্রিকবাজকে জানাতে পারেন।
দেবাশিস চৌধুরী বললেন, টাসকিনের কোনো নতুন আঘাত নেই এবং তিনি শারীরিকভাবে প্রস্তুত। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল, যার ফলে কয়েকদিন বিশ্রাম নিতে হয় এবং প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারেননি। দীর্ঘ বিশ্রামের পর তিনি ধীরে ধীরে কাজের পরিমাণ বাড়াচ্ছেন, যাতে হঠাৎ করে ম্যাচে ফিরে আসতে না হয়।
চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, সংক্রমণের ফলে টাসকিনের শ্বাসযন্ত্রে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে তিনি কিছুদিনের জন্য ব্যাটিং‑প্র্যাকটিসে অংশ নিতে পারেননি। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি কাজের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, যদি কাজের চাপ ধীরে ধীরে না বাড়ানো হয় তবে হঠাৎ করে মাঠে ফিরে আসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, টাসকিনের ফিটনেস পুনরুদ্ধার এবং দলগত সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য বিসিএল একদিনের টুর্নামেন্টকে প্রস্তুতি শিবির হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই টুর্নামেন্টটি ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা এবং এতে চারটি দল অংশগ্রহণ করবে। দলগুলোকে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শারীরিক ফিটনেস এবং কৌশলগত প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে মার্চে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে পারে।
বিসিএল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি, ওপেনার অনামুল হক বিজয় এবং মিডল‑অর্ডার মোসাদেক হোসেনও এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন। উভয় খেলোয়াড়ই পূর্বে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সন্দেহজনক কার্যকলাপের কারণে অংশ নিতে পারছিলেন না। এখন তারা এই টুর্নামেন্টে ফিরে এসে দলকে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রদান করছেন।
বিপিএল‑এর ১২তম সংস্করণে সন্দেহজনক আচরণে অভিযুক্ত কিছু খেলোয়াড়ও ওডোমো বাংলাদেশ টি২০ কাপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। এই টি২০ কাপটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন উদ্যোগ, যেখানে তিনটি দল একসাথে প্রতিযোগিতা করে। এই টুর্নামেন্টের লক্ষ্য হল জাতীয় খেলোয়াড়দের ব্যস্ত রাখা, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বিরতিপ্রাপ্ত হয়।
বাংলাদেশের আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহার করার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দ্রুতই এই তিন‑দলীয় টি২০ টুর্নামেন্ট চালু করে, যাতে খেলোয়াড়দের ম্যাচের অভিজ্ঞতা বজায় থাকে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। টাসকিনের পাশাপাশি দলের অন্যান্য মূল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে পাকিস্তান সিরিজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মুখোমুখি হওয়া যায়।
মার্চে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের পর, পাকিস্তানের সঙ্গে মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজও নির্ধারিত হয়েছে। উভয় সিরিজই ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হবে, ফলে বাংলাদেশকে ঘরে ঘরে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। টাসকিনের ফিটনেস নিশ্চিত হওয়ায় দলের পেসিং আক্রমণ শক্তিশালী হবে এবং সিরিজের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, টাসকিন আহমেদ এখন সম্পূর্ণ ফিট এবং পাকিস্তান সিরিজে অংশগ্রহণে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্বাস্থ্যবিষয়ক দিকনির্দেশনা এবং বিসিএল ও ওডোমো টি২০ কাপের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলটি এখন শারীরিক ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত, যাতে আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করা যায়।



