১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে মোট ২৯৯টি আসনের জন্য ভোটিং শেষ হয়েছে; দুইটি আসনের ফলাফল ইলেকশন কমিশন স্থগিত রাখার পর ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষিত হয়। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দুইটি আসনে জয়লাভ করে, যা দলীয় পারফরম্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
প্রকাশিত ফলাফলে দুইজন বিজয়ীর হলফনামায় শিক্ষাগত তথ্য অনুপস্থিত থাকায়, বিশ্লেষণ ২৯৪ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এই তথ্যের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাপ্রাপ্ত ১৩জন, মাধ্যমিক স্তরের ১৫জন এবং অষ্টম শ্রেণি বা স্বশিক্ষিত হিসেবে স্বীকৃত ৭জনের উল্লেখ রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন ১০জন সংসদ সদস্য, যাঁরা পিএইচডি বা ডক্টরেট ডিগ্রি ধারণ করেন। এদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত, তিনজন জামায়াত-এ-ইসলামি থেকে এবং একজন জাতীয় নাগরিক দল থেকে আসেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ডক্টরেটধারী প্রতিনিধিদের নাম ও নির্বাচিত এলাকা হল: খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা‑১), আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী‑২), মুহাম্মদ ওসমান ফারুক (কিশোরগঞ্জ‑৩), অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ‑১), এহসানুল হক মিলন (চাঁদপুর‑১) এবং এম এ মুহিত (সিরাজগঞ্জ‑৬)।
এই ছয়জনের ডক্টরেট ডিগ্রি বিভিন্ন শাখা থেকে এসেছে, যা সংসদে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াত-এ-ইসলামি থেকে নির্বাচিত ডক্টরেটধারী তিনজন হলেন মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালী‑২), ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (পাবনা‑১) এবং ইলিয়াস মোল্যা (ফরিদপুর‑১)। তাদের শিক্ষাগত পটভূমি আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ক্ষেত্রে, যা পার্টির নীতি ও আইনসভার আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দল থেকে কুড়িগ্রাম‑২ আসনে নির্বাচিত আতিক মুজাহিদও পিএইচডি ডিগ্রি ধারক, যা দলের শৈল্পিক ও বৌদ্ধিক দিককে শক্তিশালী করে।
সংসদে উচ্চশিক্ষিত প্রতিনিধিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতির সম্ভাবনা বাড়ছে। উভয় দলই তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে উচ্চশিক্ষিত সদস্যদের সংখ্যা যদিও বাড়লেও, নীতি নির্ধারণে বাস্তবিক প্রয়োগের জন্য অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দক্ষতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই দিকটি এখনও পার্লামেন্টের কাজের গতি ও ফলাফলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।
সংসদে মোট ২৯৪ জন সদস্যের মধ্যে শিক্ষাগত তথ্যের বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে। নতুন সংসদে উচ্চশিক্ষিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেশের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও আইনসভার গুণগত মান উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবে, তা পরবর্তী সেশনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



