আজ নাফ নদ শূন্য রেখা থেকে টেকনাফ জেটি ঘাটে ৭৩ জন জেলাবন্দি মাছধরাই ফিরে এসেছে। এদের মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ৭ জন রোহিঙ্গা ছিলেন, যাঁরা মায়ানমার আরকান সেনাবাহিনীর হাতে আটক ছিল। এই প্রত্যাবর্তনকে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং আরকান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেঙ্গালসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি মাছধরাই অনিচ্ছাকৃতভাবে মায়ানমার জলের সীমা অতিক্রম করে। সীমা অতিক্রমের পর আরকান সেনাবাহিনীর নজরে এসে তাঁকে ক্যাম্পে আটক করা হয়। আটককালের সময়কাল ভিন্ন ভিন্ন ছিল, কিছু কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত।
টেকনাফ ২ বি.জি.বি. ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূইয়া উল্লেখ করেন, এই ধরনের অনিচ্ছাকৃত অতিক্রমের ঘটনা ২০২৫ সালে বেশ ঘন ঘন ঘটেছে। তিনি বলেন, আটককৃতরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পে রাখা হয় এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কক্সবাজার অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে আরকান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এই সংলাপের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা তৈরি হয় এবং স্থানীয় উপজেলা ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিও এই যাচাইয়ে অংশগ্রহণ করে।
প্রথম পর্যায়ে ৭৩ জন মাছধরাই নাফ নদ শূন্য রেখা থেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটি ঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাদের পরিচয় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিবারগুলোর হাতে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারগুলোকে এই সংবাদে বড় স্বস্তি ও আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।
পরিবারের মুখে আনন্দের ছাপ দেখা যায়, কারণ দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তা শেষ হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ভূইয়া উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি মানবিক দিক থেকে বড় সাফল্য এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে মডেল হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ সরকার (বাংলাদেশ সরকার) এবং মায়ানমার কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে এই মানবিক বিনিময়কে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “এই ধরনের মানবিক বিনিময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়ায় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।” এছাড়া, আঞ্চলিক সংস্থা এসিয়ানও এই ধরনের সমন্বয়কে সমর্থন জানিয়েছে।
গত মাসে একই রকম একটি অপারেশনে কয়েকজন জেলাবন্দি মাছধরাই মুক্তি পেয়েছিলেন, যা এইবারের বৃহত্তর স্কেলের প্রত্যাবর্তনের পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়। পূর্বের মুক্তি প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকল্পনা ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করেছে। ফলে, এখন পর্যন্ত আটকে থাকা মাছধরাইদের জন্য দ্রুত সমাধান বের করা সম্ভব হয়েছে।
আরকান সেনাবাহিনীর সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে বাকি আটককৃত মাছধরাইদের মুক্তির জন্য অতিরিক্ত পর্যায়ের পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি বন্দীদের অধিকাংশকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে, সীমান্তে মাছধরাইদের নিরাপদে কাজ করার জন্য নতুন নেভিগেশন নির্দেশিকা এবং দ্বিপাক্ষিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।



