ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিত টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ২০২ রানে সাত উইকেটের সঙ্গে ইতালির ১৭৮ রানে অলআউটকে পরাজিত করে ২৪ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে। ইতালি ২০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে শেষ ওভারে তীব্র চাপের মুখে পড়ে, তবে শেষ ১২ বলেই ৩০ রানের সমীকরণ গড়ে তুললেও ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বিজয় নিশ্চিত করে।
ইতালির শুরুর শটগুলোতে দলটি দ্রুতই ২২ রানে তিনটি উইকেট হারায়, যা তাদের রণগতিতে বড় ধাক্কা দেয়। তবে জাস্টিন মসকা এবং বেন মানেন্তি দ্রুতই পা বাড়িয়ে দুজনেই ৪৮ বলের মধ্যে ৯২ রনের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। মসকা ৩৪ বলে ৪৩ রান সংগ্রহ করেন, আর মানেন্তি ২৫ বলে ৬০ রান তৈরি করে চারটি চার এবং ছয়টি ছক্কা মারেন।
মানেন্তি ও মসকার অংশীদারিত্বের পরেও ইতালি তাড়া চালিয়ে যায়, যখন গ্র্যান্ট স্টেওয়ার্ট ২৩ বলে ৪৫ রান যোগ করেন। স্টেওয়ার্টের ইনিংসে দুইটি চার এবং পাঁচটি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ইতালির স্কোরকে ১৭৮ রানে স্থিত করে। তবে ইংল্যান্ডের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতালির শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায়, এবং নির্ধারিত ২০ ওভারে দলটি অলআউট হয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে প্রথমে কিছুটা ধীর গতি দেখা গেল, তবে মাঝের ওভারগুলোতে উইল জ্যাকসের ঝড়ো ইনিংস দলকে সঞ্চালিত করে। জ্যাকস ২২ বলে ৫৩ রান তৈরি করেন, যার মধ্যে তিনটি চার এবং চারটি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত। তার পর ফিল সল্ট ১৫ বলে ২৮ রান যোগ করেন, আর জ্যাকব বেথেল ২০ বলে ২৩ রান সংগ্রহ করেন।
টম ব্যান্টন ২১ বলে ৩০ রান গড়ে তোলেন, যেখানে তিনি দুইটি চার এবং তিনটি ছক্কা মারেন। স্যাম কারান ১৯ বলে ২৫ রান তৈরি করে দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই ধারাবাহিকতা ইংল্যান্ডকে ২০২ রানে সাত উইকেটের সঙ্গে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
বোলিং দিক থেকে ইংল্যান্ডের জেমি ওভারটন এবং স্যাম কারান প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট নেন, যা ইতালির ব্যাটিংকে বাধাগ্রস্ত করে। ওভারটনের সঠিক লাইন এবং কারানের পরিবর্তনশীল গতি ইতালির শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের ধ্বংস করে, ফলে দলটি দ্রুতই অলআউট হয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ইংল্যান্ডের ফিল্ডিংও চমৎকার ছিল, যেখানে তারা দ্রুত রানের প্রবাহ বন্ধ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নিয়ে ইতালির স্কোরকে সীমাবদ্ধ রাখে। শেষ পর্যন্ত ২৪ রানের পার্থক্য দিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলটি গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে, যা টুর্নামেন্টের শীর্ষে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
এই জয় ইংল্যান্ডের টি২০ ক্যাম্পেইনে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটাবে এবং পরবর্তী ম্যাচে তাদের কৌশলগত পরিকল্পনাকে আরও দৃঢ় করবে। ইতালির জন্য এই পরাজয় শিখনের সুযোগ এনে দেবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে শুরুর থেকেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।



