মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি প্রথম থেকেই অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জোর দিয়ে বললেন, কারণ ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা উভয়ই বিপন্ন হবে। রুবিও উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো কূটনৈতিক পথে সমাধান করার ইচ্ছা রয়েছে।
রুবিও বলেন, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে “শুরু থেকেই স্পষ্ট” বলে বর্ণনা করেন এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে তা পুনরায় জোর দেন। এছাড়া, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান অন্যান্য ইস্যু সমাধানের প্রস্তুতি প্রকাশ করেন।
মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বেও আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করছি, যিনি মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং কথা বলতে আগ্রহী।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে বর্তমান প্রশাসন আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে সরাসরি সংলাপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রুবিও অতিরিক্তভাবে একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন, যেখানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন যে যদি কোনো ধর্মীয় নেতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান, তবে ট্রাম্প তা স্বীকার করবেন। তিনি এই উদাহরণে ইঙ্গিত দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে ইচ্ছুক।
ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রায় দুই দশক ধরে চলমান। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই উত্তেজনা বাড়ে, এবং ২০২৪ সালে তার দ্বিতীয় মেয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও তীব্র হয়। রুবিওর এই মন্তব্যগুলো বর্তমান প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদী নীতি ধারাকে পুনর্ব্যক্ত করে, যা ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রামকে সীমাবদ্ধ রাখার দিকে কেন্দ্রীভূত।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রুবিওর এই স্পষ্ট অবস্থান মার্কিন সরকারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে, যদি ইরান পারমাণবিক ধাপ বাড়াতে থাকে, তবে মার্কিন সরকার সম্ভবত অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করতে পারে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক উদ্বেগ কমাতে পারলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটতে পারে।
মার্কিন সরকার এই বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে এবং ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণ বাড়াতে প্রস্তুত। রুবিওর মন্তব্যের পর, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের পথ অনুসন্ধান করবে, যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা যায়।
সারসংক্ষেপে, মার্কো রুবিওর বক্তব্য ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পুনরায় জোরদারকে তুলে ধরে। এই অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে পারমাণবিক অ-প্রসারণ নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



