স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) সোমবার ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে অনুষ্ঠিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট‑২০২৬‑কে দেশের এবং বিদেশের প্রশংসা পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সাফল্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল এবং অনন্য ভূমিকার ফল।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী স্বাগত বক্তব্যে আইজিপি বাহারুল আলমের কথা শোনা যায়, এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, র্যাবের (এসআইএফ) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) আওলাদ হোসেনও উপস্থিত থেকে উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রশংসা করেন।
উপদেষ্টা চৌধুরী বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট‑২০২৬’ বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এই সাফল্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর ভিত্তি করে অর্জিত। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন।
গতকাল অনুষ্ঠিত বিশেষ কেবিনেট বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন, যা আজকের উপদেষ্টার মন্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ যে কঠিন অবস্থায় ছিল, তা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই উন্নতি সম্পর্কে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে আরও উন্নতি সাধনের জন্য সকল পুলিশ সদস্যকে আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগে কোনো দুর্নীতি ঘটেনি এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দপ্তর থেকে কোনো তদবির করা হয়নি এবং এই স্বচ্ছতা দেশের ইতিহাসে বিরল।
অনুষ্ঠানের পর উপদেষ্টা বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, অভিবাসন ও পাসপোর্ট বিভাগ এবং বিজিবি আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এসব সংবর্ধনা বিভিন্ন বাহিনীর অবদান ও সমর্থনকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তর আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাদের কাজের প্রশংসা করেন। উপদেষ্টার ধারাবাহিক উপস্থিতি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
উপদেষ্টার মন্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেন। নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বৈধতা বাড়াবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা জোরদার করবে।
সামগ্রিকভাবে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার উন্নয়ন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের সফল পরিচালনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



