অস্ট্রেলিয়া টি২০ দলের ১৫ জনের স্কোয়াডে নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অনুমোদনের পরে স্মিথ শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দলটি শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে নির্ধারিত ম্যাচের আগে এই পরিবর্তন করেছে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার মূল ওপেনার মিচেল মার্শের আঘাতের কারণে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে।
স্মিথের আগমনের আগে সীন অ্যাবটকে হ্যাজলউডের বিকল্প হিসেবে ডাকা হয়েছিল, তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় একটি স্থান ফাঁকা রইল। মার্শের আঘাতের পর তিনি কোলম্বোতে ব্যাটিং প্র্যাকটিসের সময় একটি থ্রো-ডাউন দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং টেস্টিকুলার রক্তপাতের কারণে দুই ম্যাচ মিস করেছেন, ফলে সোমবারের ক্যান্ডি ম্যাচে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী কোনো স্কোয়াড পরিবর্তন ম্যাচের এক দিন আগে জমা এবং সক্রিয় করতে হয়, এই শর্তটি অস্ট্রেলিয়া সিলেক্টর টনি ডোডেমাইডে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “স্টিভ এখানে, এবং মিচ এবং মার্কাস স্টোইনিসের অবস্থা অনিশ্চিত, তাই স্মিথকে সক্রিয় করা এবং প্রয়োজনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রাখা যুক্তিযুক্ত।” এই মন্তব্যের ভিত্তিতে স্মিথকে শীর্ষে ওপেনার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
স্মিথ টি২০ ফরমে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম অভিজ্ঞ এবং স্পিনের বিরুদ্ধে দক্ষ ব্যাটসম্যান। মূল টি২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তিনি বাদ পড়লেও, বিগ ব্যাশ লিগে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পরেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। স্টোইনিস স্মিথের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, “স্মিটি স্পষ্টতই এখানে, সুযোগ পেলে তিনি প্রস্তুত থাকবে। তিনি চূড়ান্ত পেশাদার।” এই মন্তব্যটি দলের অভ্যন্তরীণ আত্মবিশ্বাসকে প্রকাশ করে।
অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে প্যাট কামিন্স এবং হ্যাজলউডের আঘাতের কারণে শীর্ষ পেসারবিহীন। টিম ডেভিড সাম্প্রতিককালে ডিসেম্বরে পা ফাটার কারণে বাদ পড়েছিলেন, তবে এখন তিনি ফিরে এসেছেন। স্টোইনিসের হাতের আঘাতও শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে হঠাৎ পরাজয়ের পর ঘটেছে, তবে তিনি জানান তিনি ম্যাচের জন্য ফিট হতে পারেন।
গ্রুপ বি-তে অস্ট্রেলিয়া যদি শ্রীলঙ্কার হাতে হারে, তবে এটি তাদের দ্বিতীয় পরাজয় হবে। এই পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বা শ্রীলঙ্কার বৃহস্পতিবারের ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে অস্ট্রেলিয়া বাদ পড়তে পারে। দলটি এখন এই সম্ভাব্য বাদ পড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্মিথের অন্তর্ভুক্তি দলের ব্যাটিং লাইনআপে নতুন গতিশক্তি যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার স্পিনের বিরুদ্ধে দক্ষতা এবং টি২০ ফরমে অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষে ফিরে আসার মূল চাবিকাঠি হতে পারে। কোচিং স্টাফের মতে, স্কোয়াডে দ্রুত পরিবর্তন করা এবং সঠিক সময়ে খেলোয়াড়কে সক্রিয় করা টুর্নামেন্টের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।
ক্যান্ডিতে নির্ধারিত ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়া দলটি শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্শের স্বাস্থ্য অবস্থা এখনও অনিশ্চিত, তবে তার বিকল্প হিসেবে স্মিথের উপস্থিতি দলের কৌশলগত বিকল্পকে শক্তিশালী করবে। দলটি এখন পর্যন্ত দুইটি ম্যাচে অগ্রগতি বজায় রেখেছে, তবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার টি২০ ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ চলমান। স্টোইনিসের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি শীঘ্রই মাঠে ফিরে আসতে প্রস্তুত। টিম ডেভিডের ফিরে আসা পেসারদের ব্যাটিং লাইনআপে সমর্থন যোগাবে।
শ্রীলঙ্কা দলের প্রস্তুতি একইভাবে কঠোর, তবে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তনশীল স্কোয়াডের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। আইসিসি নিয়মের অধীনে স্কোয়াড পরিবর্তন দ্রুত করা সম্ভব, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য সুবিধাজনক। দলটি এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যেখানে স্মিথের ওপেনার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে গ্রুপ বি-তে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এবং এই ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের অগ্রগতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। স্মিথের অন্তর্ভুক্তি এবং মার্শের স্বাস্থ্য অবস্থা দুটোই দলের পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



