ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জাল ভোটের ঘটনা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তার নাম ব্যবহার করে ভুল তথ্য প্রচার হওয়ার বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। সংস্থা সোমবার মিডিয়াকে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে কিছু মিডিয়া তার গবেষণার ফলাফলকে বিকৃত করে জনমতকে বিভ্রান্ত করছে। এই ভুল উপস্থাপনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাই দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে টিআইবি “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেছিল। সেই সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যকে কিছু মিডিয়া ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে পুরো নির্বাচনে জাল ভোটের হার ২১.৪ শতাংশ বলে প্রচার করেছে। টিআইবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এই সংখ্যা শুধুমাত্র ৭০টি নির্বাচনী আসনের একটি র্যান্ডম নমুনার উপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত ফলাফল, পুরো দেশের ফলাফল নয়।
টিআইবি কর্তৃক পরিচালিত মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় দৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত ৭০টি আসনে এক বা একাধিক জাল ভোটের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংস্থা জোর দিয়ে বলেছে যে এই শতাংশকে পুরো ৩২২টি আসনের ওপর প্রয়োগ করা বৈধ নয় এবং তা ভিত্তিহীন অনুমান হবে।
সংগঠন উল্লেখ করেছে যে নমুনা পদ্ধতি গবেষণার নির্ভুলতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে ফলাফলকে পুরো নির্বাচনের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যের বিকৃতি ঘটায়। টিআইবি মিডিয়াকে অনুরোধ করেছে যে যারা এই তথ্যকে বিকৃতভাবে প্রকাশ করেছে, তারা দ্রুত সংশোধনী প্রকাশ করে ভুল ধারণা দূর করুক। অন্যথায়, এমন প্রকাশকে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
টিআইবি এই সতর্কতা প্রকাশের পাশাপাশি মিডিয়াকে ভবিষ্যতে তার নাম ব্যবহার করে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যথাযথ যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থা জোর দিয়ে বলেছে যে তার গবেষণার ফলাফল শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্তে এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়েছে, তাই তা প্রসঙ্গের বাইরে ব্যবহার করা অনুচিত।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী কমিশনও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে সতর্কতা জারি করেছে এবং মিডিয়াকে সঠিক তথ্য প্রদান করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। টিআইবি ও কমিশনের এই যৌথ পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে জাল ভোটের অভিযোগ নির্বাচনকে অস্থির করতে পারে, তবে সঠিক তথ্যের অভাবই মূল সমস্যার কারণ। টিআইবি যে তথ্যকে সীমিত নমুনা হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তা যদি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তবে তা বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই মিডিয়ার দায়িত্ব হল তথ্যকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা।
টিআইবি ভবিষ্যতে তার গবেষণার ফলাফল প্রকাশের জন্য আরও স্বচ্ছ পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে এবং মিডিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে। সংস্থা আশা করে যে সংশোধনী প্রকাশের মাধ্যমে জনমতকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া যাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনর্স্থাপন হবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ জাল ভোটের তথ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা নিয়ে মিডিয়াকে সতর্ক করেছে, সংশোধনী প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই সতর্কতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



