গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় রোববার রাত প্রায় নয়টায় এক যুবদল নেতার ওপর ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে হিংসাত্মক হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল ছিল বরিশাল ইউনিয়নের জুনদাহ বাজার, যেখানে স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি দ্রুত আক্রমণ করে। আহত ব্যক্তি গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার সময় কাকন মণ্ডল (বয়স ৩৫) জুনদাহ বাজারে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বরিশাল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দুর্বলাগাড়ি গ্রামের মিরু মণ্ডলের পুত্র। স্থানীয়দের মতে, আক্রমণকারী দলটি ধারালো ছুরি ও কাঁচি নিয়ে হঠাৎ তার দিকে এগিয়ে আসে এবং দ্রুতই তাকে কুপিয়ে নেয়।
আক্রমণের ফলে কাকনের ডান হাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুই পা ভেঙে যায়। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি তীব্র সেবায় আছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদল সভাপতি রাজু আহম্মেদ ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “জামায়াত-এ-ইসলামি শিবিরের নেতাকর্মীরা কাকনের উপর হামলা চালিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই আক্রমণ যুবদল ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বরিশাল ইউনিয়ন জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শামীম প্রধান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “এই ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামি বা ইসলামী শিবিরের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল এবং মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কোনো গোষ্ঠীকে দোষারোপ করা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, আইনসঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হবে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে গেছেন এবং আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সাক্ষী ও ভিডিও রেকর্ডিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, আক্রমণকারী দলটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় গাড়ি রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড ও মোবাইল ট্র্যাকিং ডেটা থেকে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
আহত কাকন মণ্ডলের পরিবার জানিয়েছে, তিনি গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হবে। পরিবারে তার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছেন।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুনদাহ বাজারের আশেপাশের রাস্তায় রাত্রিকালীন পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, আক্রমণটি গুলিবিদ্ধ আঘাত, অস্ত্র ব্যবহার এবং গৃহহত্যা সংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হলে আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, পলাশবাড়ী উপজেলায় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক বিরোধের সমাধানে শান্তিপূর্ণ সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই বলেছে, আক্রমণকারীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের শাসন বজায় রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলমান থাকায়, নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে।



