আজ জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান, অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে তেজগাঁও, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা অফিসে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎটি শিষ্টাচারপূর্ণ ভিজিটের রূপে অনুষ্ঠিত হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শিত হয়। সাক্ষাৎকারের সময় দুজনেই সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নেন।
মিটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বসম্পন্নকরণে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বিষয়ক বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা। দুজনেই বর্তমান প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে, ১৩তম সংসদ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তা ও সমর্থন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এছাড়াও, তিনি ভবিষ্যতে এই সমন্বয় বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে জানান যে, সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন যে, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় দেশের সামগ্রিক মঙ্গলের জন্য অপরিহার্য। এ ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৩তম সংসদ নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নির্বাচনের সময় নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় সহায়তা করে। এই অভিজ্ঞতা উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসকে দৃঢ় করেছে।
এই সাক্ষাৎটি দেশের সিভিল-সেনা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শাসনকালে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্বীকৃতি পেয়েছে এবং সরকারী নীতি বাস্তবায়নে সমর্থন পেয়েছে। উভয় পক্ষের এই সমন্বয় রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
অন্তবর্তীকালীন সরকার এখন থেকে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সমর্থন পাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ছাড়াও অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সমন্বয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতিতে অবদান রাখবে।
জেনারেল ওয়াকার উজ জামানও একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে এবং ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের সার্বিক মঙ্গলের জন্য কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। এই প্রতিশ্রুতি দেশের নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
সাক্ষাৎকারের পর উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এবং জেনারেল ওয়াকার উজ জামান উভয়ই দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল করে তুলবে।
সারসংক্ষেপে, আজকের সাক্ষাৎটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বসম্পন্নকরণে এবং ১৩তম সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উভয় পক্ষের সমন্বয় ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা, শাসন এবং উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে সমর্থন করবে বলে আশা করা যায়।



