২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয়তাবাদী যুবদল শামীম হোসেনকে সিংড়া উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন আকন্দের ওপর চড়-থাপ্পড়ের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপটি যুবদলের শৃঙ্খলা ও আদর্শের লঙ্ঘনের ফল।
ঘটনাটি ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায় কালিগঞ্জ বাজারে সংঘটিত হয়। শামীম হোসেন আলতাব হোসেনকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে, যার পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।
শামীম হোসেন চাটারদিঘি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, আর আলতাব হোসেন ঐ ইউনিয়নের প্রাক্তন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ (আওয়ামী লীগ) সহসভাপতি ছিলেন। উভয়ের রাজনৈতিক সংযোগ একই গ্রামীয় স্তরে দীর্ঘদিনের বিরোধের সূচনা করে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০১৭ সালে একই বাজারে আলতাব হোসেনের নির্দেশে শামীম হোসেনের লোকজনকে চড়-থাপ্পড়ের মুখোমুখি করা হয়েছিল। তখন আলতাব হোসেন উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন এবং শামীম হোসেনকে তার সমর্থনকারী হিসেবে লক্ষ্য করা হয়।
শামীম হোসেন দাবি করেন যে, ২০১৭ সালের ঘটনায় তিনি ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার কারণে মারখেয়া পান এবং তাই ২০২৪ সালে প্রতিশোধ হিসেবে একই ধরণের আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “চড়-থাপ্পড়ের বদলে শুধু চড়-থাপ্পড়ই দিলাম” এবং এটিকে ন্যায়সঙ্গত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেন।
আলতাব হোসেন জানান, তিনি কখনো শারীরিকভাবে আক্রমণ পাননি এবং ২০১৭ সালের কোনো ইসলামী অনুষ্ঠানের সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সংযোগ নেই। তিনি নিজের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করেন।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শামীম হোসেনের বহিষ্কারের বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতি-আদর্শের বিরোধিতা মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন অনুমোদন করেন। তারা সকল স্তরের নেতাকর্মীদের শামীম হোসেনের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেন এবং তার কার্যক্রমে সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানান।
দল স্পষ্ট করে জানায় যে, শামীম হোসেনের কোনো অপকর্মের জন্য দল দায়িত্ব নেবে না এবং ভবিষ্যতে তার কর্মকাণ্ডে কোনো সমর্থন প্রদান করা হবে না। এই নীতি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। অনলাইন মন্তব্যে উভয় পক্ষের সমর্থক ও সমালোচক সক্রিয়ভাবে মত প্রকাশ করেন।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা দল গঠন করে এবং শামীম হোসেনের ওপর অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত চলমান থাকায় আদালতে পরবর্তী শোনানির সময় নির্ধারিত হয়নি, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে।
এই ঘটনা নাটোরের সিংড়া উপজেলার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের ইতিহাস রয়েছে। উভয় পক্ষের সমর্থক গোষ্ঠী এখনো সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
অধিক তথ্য ও সাক্ষীর বিবরণ পাওয়া গেলে তদন্ত দ্রুত অগ্রসর হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে এবং জনগণকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বহিষ্কারের পর শামীম হোসেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে, আর আলতাব হোসেনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিভাগ সমন্বিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো আইনি বা রাজনৈতিক সমাধান না হলে অতিরিক্ত সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে যাবে।



