১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকার মাইডাস সেন্টারে টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) একটি সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গড় বয়স ৫৯ বছর, যা পূর্বের সংসদগুলোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, এই গড় বয়সের পিছনে নতুন মুখের প্রবেশের প্রভাব রয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সের সদস্যরা মাত্র ৩.০৩ শতাংশ, ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সের সদস্যরা ৬.৭৩ শতাংশ, ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সের সদস্যরা ১৮.৮৬ শতাংশ, ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের সদস্যরা ৩৩.৬৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে বড় অংশ, ৩৬.০৩ শতাংশ, ৬৫ বছরের উপরে। এই বয়সের বৈচিত্র্য সংসদে বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে।
বয়সের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও, ২০৯ জন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। এই সংখ্যা সংসদের গঠনকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে বলে টিআইবি আশা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, এই সংসদে স্পিকার এবং বিরোধী দলের নেতা উভয়ই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে প্রবেশ করছেন, যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। দুজনই নবাগত হওয়ায় পার্লামেন্টের আলোচনায় নতুন তাজা দৃষ্টিকোণ যোগ হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংসদ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, তরুণ প্রতিনিধিরা প্রযুক্তি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে নতুন ধারণা আনতে সক্ষম হতে পারেন, যেখানে অভিজ্ঞ সদস্যরা নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান প্রদান করবেন।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে, নতুন সংসদ সদস্যদের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্রিয় হবে, সেটি এখনই পরীক্ষা করার সময়। টিআইবি ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে সংসদীয় কার্যক্রমের ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং ফলাফল জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে।
সরকারি পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, নতুন মুখের উপস্থিতি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে ত্বরান্বিত করবে। অপরদিকে, বিরোধী দলও প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করা নেতাদের মাধ্যমে তাদের নীতি ও কৌশল পুনর্গঠন করার সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।
দুই পক্ষই একমত যে, নতুন সংসদ সদস্যদের কার্যকরী ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ হবে। টিআইবির প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে, ভোটাররা নতুন নেতৃত্বের ওপর ব্যাপক আস্থা রেখেছেন এবং এই আস্থা বজায় রাখতে সংসদকে ফলপ্রসূ কাজ করতে হবে।
সংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গড় বয়স ৫৯ বছর, বয়সের বিস্তৃত পরিসর এবং ২০৯ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সদস্যের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে। টিআইবি এই পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে সংসদীয় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



