ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই) সোমবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাজ্যের ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে। এই পদক্ষেপটি ন্যাশনাল লটারি তহবিলের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬-২০২৯ সময়কালের জন্য পরিকল্পিত।
বিএফআইের নতুন আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডক সোসাইটি নামক সংস্থাকে তিন বছরের মধ্যে মোট £৭.২ মিলিয়ন (প্রায় $৯.৮ মিলিয়ন) প্রদান করা হবে। এই তহবিলটি ফিচার ডকুমেন্টারি, ইমারসিভ প্রকল্প, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং প্রতিভা উন্নয়নের জন্য সমানভাবে ভাগ করা হবে। পূর্বের ত্রৈমাসিক সময়ের তুলনায় এই বরাদ্দে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।
বিএফআইের বিবৃতি অনুযায়ী, অতিরিক্ত তহবিলের মাধ্যমে ফিচার ডকুমেন্টারির উৎপাদন ও উন্নয়ন আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হবে, ফলে ডক সোসাইটি আরও বিস্তৃত সহায়তা প্রদান করতে পারবে। নতুন ইমারসিভ ফান্ডের পাশাপাশি, ফিচার-দৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টারির জন্য একটি বিশেষ উন্নয়ন তহবিলও চালু করা হবে।
প্রোডাকশন সাপোর্টের ক্ষেত্রেও দুইটি আলাদা ফান্ডের ব্যবস্থা করা হবে; একটি উদীয়মান পরিচালকদের জন্য এবং অন্যটি মধ্যম-অবধি থেকে প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য। এই ব্যবস্থা ডকুমেন্টারি শিল্পে ক্যারিয়ার গঠন ও টেকসইতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।
বিএফআইের ফিল্মমেকিং ফান্ডের পরিচালক মিয়া বেসের মতে, স্বাধীন ইউকে ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রগুলো দেশের সাংস্কৃতিক জীবনে সত্যের সন্ধানী শক্তি হিসেবে কাজ করে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে যখন তথ্যের প্রবাহ দ্রুত এবং বিশৃঙ্খল, তখন এই চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলতে এবং আমাদের পরিচয় স্পষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডক সোসাইটি ফান্ডের প্রধান লুক উই. মডির মন্তব্যে তিনি বলেন, ডকুমেন্টারি সিনেমা এবং ইমারসিভ ফরম্যাটগুলো দর্শকদেরকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। তিনি যুক্ত করেন, এই ধরনের কাজগুলো সমাজের বিভিন্ন দিককে প্রতিফলিত করে এবং মানুষের মধ্যে সমঝোতা বাড়ায়।
শানিদা স্কটল্যান্ড, ডক সোসাইটির সহ-নির্বাহী পরিচালক, তহবিলের বৃদ্ধি এবং নতুন ফান্ডের সূচনার মাধ্যমে ডকুমেন্টারি শিল্পের বৈচিত্র্য ও গুণগত মান উন্নত হবে বলে আশাব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন গল্প, নতুন কণ্ঠস্বর এবং নতুন প্রযুক্তি শিল্পে প্রবেশ করবে।
বিএফআইের এই আর্থিক সম্প্রসারণের ফলে যুক্তরাজ্যের ডকুমেন্টারি নির্মাতারা আরও বেশি প্রকল্প শুরু করতে পারবে, বিশেষত এমন বিষয়গুলোতে যা সামাজিক পরিবর্তন ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর আলোকপাত করে। তদুপরি, ইমারসিভ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদেরকে আরও গভীর অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
এই তহবিল বৃদ্ধি ডকুমেন্টারি শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও স্থিতিশীল করে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য পথ প্রশস্ত করবে। শিল্পের বিভিন্ন স্তরে সমর্থন বাড়ার ফলে, দর্শকরা আরও সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নন-ফিকশন কন্টেন্ট উপভোগ করতে পারবে।
বিএফআইের এই পদক্ষেপটি দেশের সাংস্কৃতিক নীতির অংশ হিসেবে ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প শাখা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তহবিলের এই বর্ধন এবং নতুন ফান্ডের সূচনা ডকুমেন্টারি নির্মাতাদের জন্য একটি শক্তিশালী সমর্থন কাঠামো গড়ে তুলবে, যা তাদের সৃজনশীলতা ও গবেষণাকে আরও উন্মুক্ত করবে।
ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই নতুন তহবিলের ব্যবহার কীভাবে শিল্পের গুণগত মান ও বৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করবে তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, এই আর্থিক সহায়তা যুক্তরাজ্যের নন-ফিকশন সেক্টরের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



