পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত-এ-ইসলামি মনোনীত প্রার্থী শামীম সাঈদী, ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে নির্বাচনের ফলাফলে পরাজয়ের পরেও সমর্থক ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সমর্থকদের ভালোবাসা এমন এক ঋণ যা কখনো সম্পূর্ণভাবে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়; তাই হৃদয়ের গভীর থেকে তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেন। নির্বাচনের পর বেশ কিছু ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে সমবেদনা ও জিজ্ঞাসা পেয়ে তিনি উত্তর দিতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
শামীম সাঈদী আরও জানান, তার রাজনৈতিক যাত্রা এখানেই থামবে না এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি এই নির্বাচনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করার সংকল্প প্রকাশ করেন। অতীতের মতোই তিনি জনগণের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও তেমনই থাকতে চান, এ কথাও তিনি জোর দিয়ে বলেন।
তার পোস্টের পর সমর্থকগণ মন্তব্যের মাধ্যমে তার প্রতি সমর্থন, উৎসাহ এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানায়। কিছু মন্তব্যে তিনি যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তা প্রশংসা করা হয় এবং তার পুনরায় রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রত্যাশা করা হয়।
শামীম সাঈদী, যিনি প্রয়াত আলেম দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মেজো ছেলে, পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসন থেকে জামায়াত-এ-ইসলামি দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন, যাকে শামীম সাঈদী ৮,২৮৮ ভোটে পরাজিত করেন।
এই নির্বাচনী ফলাফল স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক নির্দেশ করে। শামীম সাঈদীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তার দলের মধ্যে পুনর্গঠন ও কৌশলগত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, বিজয়ী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমনের জয় তার পার্টির জন্য শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে এবং পরবর্তী সময়ে নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শামীম সাঈদীর মতামত ও পরিকল্পনা তার সমর্থকদের মধ্যে পুনরায় সংগঠনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন তিনি সক্রিয়তা ও শিক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি যে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, তা ভবিষ্যতে পুনরায় নির্বাচনী লড়াইয়ে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
অবশেষে, শামীম সাঈদীর এই প্রকাশনা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে তিনি পরাজয়কে শেষ নয়, বরং নতুন সূচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তার সমর্থক ও দলীয় কর্মীরা এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।



