আহমেদ আকবর সোবহান, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান, ব্যবসা ও ক্রীড়া উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি দেশের শিল্পখাতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি “বাংলাদেশ প্রথম” নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
সোবহান ১৯৭০‑এর দশকে বসুন্ধরা গ্রুপের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং ধীরে ধীরে রিয়েল এস্টেট, সিমেন্ট, প্যাকেজিং, লজিস্টিক্সসহ বহু সেক্টরে বিস্তৃত ব্যবসা গড়ে তোলেন। গ্রুপের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দেশের শিল্পবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার নেতৃত্বে গ্রুপের শেয়ার মূলধনও স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সোবহান ক্রীড়া উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দেন। তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাব ও ইভেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করে তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে দেশের ফুটবল, হ্যান্ডবল এবং ব্যাডমিন্টন দলগুলোকে আধুনিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে তার বিনিয়োগ শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, প্রশিক্ষক ও ক্রীড়া বিজ্ঞানীর সঙ্গে সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত। এই পদ্ধতি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নত করে এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় দেশের উপস্থিতি বাড়ায়। ফলে স্পনসরশিপ ও মিডিয়া মনোযোগ বাড়ে, যা সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিক্রয়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সোবহানের ব্যবসায়িক নীতি “সামাজিক দায়িত্ব”কে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে। তিনি কর্মচারীর কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রুপের ব্র্যান্ড ইমেজকে শক্তিশালী করে এবং গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়ায়।
তার নেতৃত্বে বসুন্ধরা গ্রুপের কর্পোরেট সংস্কৃতি স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কোনো অপ্রাপ্য প্রতিশ্রতি না দিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণের ফলে কোম্পানি ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছে। এই পদ্ধতি শেয়ারহোল্ডারদের দীর্ঘমেয়াদী রিটার্ন নিশ্চিত করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সোবহানের ক্রীড়া‑সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ দেশের স্পনসরশিপ বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ক্রীড়া ইভেন্টের সাথে যুক্ত ব্যবসা, যেমন স্পোর্টস গুডস, মিডিয়া ও টিকিটিং, এখন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা গ্রুপের বহুমুখী পোর্টফোলিওকে সমর্থন করে।
তবে এই বিস্তৃত বিনিয়োগের সঙ্গে কিছু ঝুঁকি যুক্ত। ক্রীড়া প্রকল্পের রিটার্ন সময়সীমা দীর্ঘ হওয়ায় নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে। সোবহান এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণ করেছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রুপের রিয়েল এস্টেট প্রকল্পগুলো নগরায়ণ ও হাউজিং চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উচ্চমানের আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি তৈরি করে তিনি দেশের সম্পদ গঠনকে ত্বরান্বিত করেছেন। এই প্রকল্পগুলো স্থানীয় শ্রমশক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
সোবহানের দৃষ্টিভঙ্গি “সবার আগে বাংলাদেশ” ব্যবসা, ক্রীড়া ও সামাজিক দায়িত্বের সমন্বয়কে নির্দেশ করে। তিনি বিশ্বাস করেন, একক সেক্টরে অগ্রগতি নয়, সব ক্ষেত্রের সমন্বিত উন্নয়নই দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াবে। এই নীতি গ্রুপের কৌশলগত পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত।
ভবিষ্যতে সোবহান গ্রুপের ক্রীড়া পোর্টফোলিওকে আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। নতুন স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ক্রীড়া প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি দেশীয় ক্রীড়া ইকোসিস্টেমকে আধুনিকায়ন করতে চান। এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্পনসরশিপ ও মিডিয়া আয়ের বৃদ্ধি ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংক্ষেপে, আহমেদ আকবর সোবহান ব্যবসা ও ক্রীড়া উভয় ক্ষেত্রেই দৃঢ় নেতৃত্বের উদাহরণ। তার সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ক্রীড়া উন্নয়নে সমন্বিত প্রভাব ফেলছে। বাজারের স্থিতিশীলতা, সামাজিক দায়িত্ব এবং ক্রীড়া সংস্কৃতির সমন্বয়ই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।



