28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইজরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরের বিশাল জমি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধনের পরিকল্পনা অনুমোদন...

ইজরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরের বিশাল জমি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে

ইজরায়েলি সরকার রবিবার পশ্চিম তীরের বিশাল অংশকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার ফলে ফিলিস্তিনিদের মালিকানা প্রমাণে ব্যর্থ হলে ঐ জমি সরকারী দখলে যাবে। এই পদক্ষেপটি ইসরায়েলি ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সমন্বয়ে উপস্থাপিত হয়।

স্মোত্রিচ এই পরিকল্পনাকে ‘বসতি বিপ্লব’ বলে উল্লেখ করে বলেন, “এ পদক্ষেপ আমাদের সব জমি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।” লেভিন এটিকে ইজরায়েলি সরকারের সব অংশে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার প্রতিশ্রুতির প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন।

আল জাজিরা অনুসারে, এই সিদ্ধান্ত ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে স্থবির থাকা ‘জমির মালিকানা নিষ্পত্তি’ প্রক্রিয়াকে পুনরায় চালু করার পথ খুলে দিয়েছে। নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দাবি করা মালিকদেরকে নথিপত্র জমা দিতে হবে, তবে দশকের পর দশক দখলদারিত্বের ফলে ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফলস্বরূপ, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের প্রশাসন এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘কার্যত সংযুক্তিকরণ’ হিসেবে সমালোচনা করে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও ইজরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা করে। হামাসের মতে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমিগুলোকে ‘রাষ্ট্রীয় ভূমি’ হিসেবে নিবন্ধন করা চুরি ও ইহুদিকরণ করার প্রচেষ্টা, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন।

হামাসের মুখে এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি অবৈধ দখলদার শক্তির অকার্যকর ও বাতিল সিদ্ধান্ত’ বলা হয়। তারা জোর দিয়ে বলেন, “এটি জোরপূর্বক বসতিস্থাপন ও ইহুদিকরণ চাপিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা।”

প্রস্তাব অনুমোদনের পরই আঞ্চলিক স্তরে তীব্র প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে তাদের স্বায়ত্তশাসন ও ভূমি অধিকার হুমকিরূপে দেখছে।

ইজরায়েলি সরকার দাবি করে যে, এই পদক্ষেপটি আইনগত কাঠামোর মধ্যে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা প্রকাশ করে, যে এই ধরনের নীতি দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পশ্চিম তীরের এই অঞ্চলটি বর্তমানে প্রায় তিন লক্ষ ফিলিস্তিনি বসবাসকারী এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আরও বেশি জনসংখ্যা রয়েছে। জমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হলে, অধিকাংশ ফিলিস্তিনি যথাযথ নথি সরবরাহে অক্ষম থাকায় তাদের অধিকার হ্রাস পেতে পারে।

ইজরায়েলি সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো জমি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া ও নীতি সমন্বয়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের নেতৃত্ব ও হামাসের দাবি অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে পশ্চিম তীরের অধিগ্রহণের কোনো আইনি ভিত্তি না থাকে।

ইজরায়েলি সরকার ও ফিলিস্তিনের মধ্যে এই ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোবে তা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments