28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে আসামি গ্রেফতারকালে এএসআই হৃদরোগে মারা গেছেন

ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে আসামি গ্রেফতারকালে এএসআই হৃদরোগে মারা গেছেন

রবিবার রাত একটায়, থাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া গ্রামে একটি পুলিশ অভিযান চলাকালীন এএসআই শহীদুল ইসলাম মারা যান। শহীদুল ইসলাম পীরগঞ্জ থানায় এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাস্থলে রাত্রিকালীন সময়ে কোনো বিশাল জনসমাবেশের রিপোর্ট নেই।

অভিযানটি স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে চালু হয় এবং পুলিশ দল গ্রামাঞ্চলে ঘুরে আসামি সনাক্ত করে। আসামি গ্রেফতার করে গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ গ্রামবাসীর সহায়তায় দ্রুত আসামি সনাক্ত করে গ্রেফতার সম্পন্ন করে।

গ্রেফতারকৃত আসামি বর্তমানে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে পরবর্তী আদালতে পাঠানো হবে। আসামির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত, যা তদন্তের অংশ।

গ্রেফতারকালে এএসআই শহীদুল ইসলাম হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। ব্যথা তীব্র হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। শহীদুল ইসলাম গাড়িতে চড়ার সময়ই শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক ডা. তানজিনা দ্রুত পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার ফলাফল জানায় যে এএসআই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলেছিলেন। ডা. তানজিনার মতে, শ্বাসনালীর অবস্থা দ্রুত অবনতি হয়।

ডা. তানজিনা উল্লেখ করেন, বুকে হঠাৎ ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের লক্ষণ থেকে হৃদরোগের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে লাশের ময়নাতদন্ত করা প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ বা পূর্বে হৃদরোগের ইতিহাসও সম্ভাব্য কারণ।

পীরগঞ্জ থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলামও এএসআইয়ের মৃত্যু হৃদরোগের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, আসামি গ্রেফতারকালে কোনো সহিংসতা বা শারীরিক আঘাতের রিপোর্ট নেই। ওসি জানিয়েছেন, কাজের সময় কোনো শারীরিক সংঘর্ষের তথ্য নেই।

আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ রেজিস্টার করা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করে তাকে নিকটস্থ জেলায় পাঠানো হবে। হেফাজতে থাকা আসামিকে তার আইনি অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছে।

মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বিভাগ লাশের অটোডক্সি আদেশ করেছে, যাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়। অটোডক্সি ফলাফলের ভিত্তিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবৃতি সংগ্রহ করছে। কমিটি সদস্যরা সরঞ্জাম ও চিকিৎসা সহায়তা মূল্যায়ন করেন।

এএসআই শহীদুল ইসলামের পরিবারকে শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় সমাজে এই ঘটনার শোকের পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। সহকর্মীরা কর্মস্থলে স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।

পুলিশ বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা বিরল, তবে কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পুলিশের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রশিক্ষণ চালু হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। গ্রামীণ এলাকায় রক্তচাপ মাপার মবাইল ইউনিট স্থাপন করা হবে।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত কাজের মাধ্যমে আসামির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং এএসআইয়ের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা হবে। পরবর্তী আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments