বাংলাদেশ সরকার ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ করেছে। এই পদবী সরকারী প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় সিভিল পরিষেবার দায়িত্বে থাকে এবং নতুন সরকারের শাসনকালে গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে নিয়োগটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ড. গনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।
পূর্বে, নতুন সরকারের শপথের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ড. শেখ আব্দুর রশীদকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। রশীদের চুক্তি ৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে জারি করা হয়েছিল এবং তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরকার তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাতিলের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে রশীদকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ তৎক্ষণাৎ শেষ করা হচ্ছে।
ড. রশীদের চুক্তি বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেই পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে চুক্তিভিত্তিক চাকরিটি তার পছন্দের নয় এবং তিন মাস আগে থেকেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন, তবে নির্বাচনের নিকটতা কারণে প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। রশীদের মতে, তিনি ইতিমধ্যে পদত্যাগের আবেদন জমা দিয়েছেন এবং তা এখন সরকারীভাবে স্বীকৃত হয়েছে।
ড. রশীদের পদত্যাগের পর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৪ ফেব্রুয়ারি দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রথম প্রজ্ঞাপনে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মিয়া এই দায়িত্ব পালন করবেন।
এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, যিনি ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিযুক্ত, এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাজের তত্ত্বাবধান করবেন। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি এই অতিরিক্ত দায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছেন এবং নতুন নিয়োগ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। তার এই পদবী পরিবর্তন সরকারকে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
ড. নাসিমুল গনির নিয়োগের পেছনে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি পূর্বে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সিভিল পরিষেবা পদে কাজ করেছেন এবং তার অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গনির দায়িত্বে থাকবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সকল প্রশাসনিক ও সমন্বয়মূলক কাজ, যার মধ্যে সরকারি বিভাগগুলোর কার্যকরী সমন্বয় এবং উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত।
গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর সরকারী কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ড. গনি এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকারের শাসনকালের প্রথম মাসগুলোতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে সক্ষম হবেন। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রশাসনিক সংস্কার এবং সেবা প্রদান উন্নত করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত সরকারি ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে যে ড. রশীদ ব্যক্তিগত কারণে, নির্বাচনের আগে প্রধান উপদেষ্টার কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে নির্বাচনের নিকটতা এবং সরকারী প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে তার আবেদন তৎক্ষণাৎ কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং সময়োপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে যে নতুন নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এভাবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে সরকারী কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পরিবর্তন নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলবে, বিশেষত জনসেবা ও উন্নয়ন প্রকল্পের ত্বরান্বিত বাস্তবায়নে। যদিও এই পরিবর্তনটি স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনিক সমন্বয় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি সরকারকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ড. নাসিমুল গনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন, ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তি বাতিল ও পদত্যাগের পর এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া তাত্ক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, এবং নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো দেশের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



