অবিভক্ত জমা এবং ঋণ সমস্যার মুখে ৬৪ বছর বয়সী ফারুক হাসান, যিনি বায়াপাস শল্যচিকিৎসার পর বাড়িতে শোয়াশয় অবস্থায় আছেন, তার ৮০ লাখ টাকার স্থায়ী জমা বর্তমানে Aviva Finance-এ জমা বন্ধের কারণে ব্যবহার করতে পারছেন না। তিনি নিয়মিত ওষুধের জন্য তহবিলের প্রয়োজন, কিন্তু জমা পরিপক্ক হওয়ার পরও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ পাচ্ছেন না।
ফারুক হাসান জানিয়েছেন যে, জরুরি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য তহবিলের প্রয়োজন, তবে জমা বন্ধের ফলে তিনি অপ্রতুল অবস্থায় আছেন। তিনি নতুন সরকার কি তার টাকা ফেরত পেতে সহায়তা করবে কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অবস্থা সত্ত্বেও তিনি ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচনে অসুস্থ অবস্থায় ভোট দিয়েছেন, তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন তার আর্থিক সমস্যার সমাধান আনবে কিনা তা নিয়ে এখনো অনিশ্চিত।
Aviva Finance, যা এখন লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার প্রান্তে, মোট ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি, যেগুলোকে অস্থায়ী সরকার ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ শাসনকালে সঞ্চিত বিশাল অনিয়ম ও জালিয়াতির ভিত্তিতে লিকুইডেট করার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সমস্যার পরিধি আরও বিস্তৃত; নতুন বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন সরকারকে ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকটের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে, যেখানে বিশ্বাস ভেঙে গেছে এবং কোটি কোটি টাকার জমা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অধিকাংশ তথ্য প্রকাশের পর জানা গেছে, ব্যাংকিং সেক্টরের নন‑পারফরমিং ঋণ (NPL) সেপ্টেম্বর গত বছর পর্যন্ত মোট ঋণের ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রায় টাকায় ৬.৪৪ লাখ কোটি। এই উচ্চমাত্রা পূর্বের কোনো সময়ে দেখা যায়নি।
আগস্ট ২০২৪ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঠিক দুই মাস আগে, সমস্যাজনিত ঋণ ছিল প্রায় টাকায় ২ লাখ কোটি। এই তুলনা দেখায় যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে সমস্যাজনিত ঋণ তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই দ্রুত বৃদ্ধি পেছনে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সিস্টেমিক জালিয়াতি ও গোপনীয়তা রয়েছে, যা এখনো সম্পূর্ণ প্রকাশ পায়নি।
বর্তমানে জানা যাচ্ছে, দেশের মোট সমস্যাজনিত ঋণ টাকায় ৬ লাখ কোটি অতিক্রম করেছে, যা আর্থিক নিরাপত্তা ও ঋণগ্রহীতার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে।
ডিপোজিটরদের বিশ্বাস ভেঙে যাওয়ায় এবং বড় পরিমাণে জমা ঝুঁকির মধ্যে পড়ার ফলে ব্যাংকিং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
নতুন সরকারকে লিকুইডেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে, অবিভক্ত জমা ফেরত দেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদে, নন‑পারফরমিং ঋণ হ্রাস, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর শক্তিশালীকরণই ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি হবে।
সারসংক্ষেপে, নতুন বিএনপি সরকারকে অবিভক্ত জমা, উচ্চ সমস্যাজনিত ঋণ এবং ব্যাংকিং সংকটের সমাধানে ত্বরিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা আর্থিক সিস্টেমের উপর আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।



