মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে, যা স্বাধীনতার পর থেকে শপথের ঐতিহ্যিক স্থান থেকে প্রথম বিচ্যুতি। ঐতিহ্যগতভাবে শপথ রাষ্ট্রপতি যেখানে থাকেন, অর্থাৎ বঙ্গভবনে নেওয়া হয়ে থাকে। এই পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক রীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার, যার প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ আছে, দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে। একই দিনে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন। উভয় শপথই একসাথে অনুষ্ঠিত হবে, যা পূর্বের আলাদা-আলাদা অনুষ্ঠানের তুলনায় ভিন্ন।
স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে শপথের স্থান হিসেবে বঙ্গভবনই ব্যবহৃত হয়ে আসছে, এবং শপথ সাধারণত রাষ্ট্রপতি নিজে পাঠ করান। এই রীতি ভাঙা নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শপথের স্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক সংকেত বহন করতে পারে।
ইতিহাসে প্রথম সরকার ১৭ এপ্রিল ১৯৭১-এ মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ নেয়, যা অস্থায়ী সরকার হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতা অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি ১৯৭২-এ প্রথম সার্বভৌম সরকারের শপথ বঙ্গভবনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নেওয়া হয়, শপথ পাঠান তখনকার রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সামনে শপথ নেয়। এই সব উদাহরণে শপথের স্থান একরূপ ছিল, যা এবার ভিন্ন হয়েছে।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে; ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টি গেজেটে ঘোষিত হয়েছে। বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো ২১২টি আসন জয় করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। জামায়াত-এ-ইসলামি ৬৮টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের অংশে থাকবে, বাকি আসনগুলো অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দখল করেছে।
সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হবে। যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকেন, তবে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠাতে পারেন। তদুপরি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা প্রধান বিচারপতি শপথ নিতে অনুমোদিত।
বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন, নীতি নির্ধারণ এবং আইনসভার কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জোটের মধ্যে আসন বণ্টন, মন্ত্রিপদে কারা আসবেন এবং সরকারী অগ্রাধিকারের নির্ধারণ আগামী সপ্তাহে পরিষ্কার হবে। এই পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণের পর, সংসদে প্রথম অধিবেশন এবং বাজেট অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সূচনা হবে। নতুন সরকারের গঠন ও নীতি বাস্তবায়ন দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে মূল ভূমিকা রাখবে।



