ত্রয়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে লালমনিরহাটের তিনটি নির্বাচনী এলাকা একসাথে বিএনপি দলের জয়লাভের সাক্ষী হয়েছে। লালমনিরহাট‑১, লালমনিরহাট‑২ ও লালমনিরহাট‑৩ আসনে বিজয়ী প্রার্থীরা ভোটের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে, যা দুইটি আসনে ৪৭ বছর, আর একটি আসনে ২৫ বছর পর প্রথমবারের মতো দলটি জয়লাভ করেছে।
লালমনিরহাট‑১ (হাতীবান্ধা‑পাটগ্রাম) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. হাসান রাজিব প্রধান ১,৩৮,৬৮৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াত-এ-ইসলামির মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু ১,২৯,৫৭২ ভোট সংগ্রহ করেন, ফলে হাসান রাজিব প্রধান ১,১১৪ ভোটের পার্থক্যে বিজয়ী হন।
এই আসনের পূর্ববর্তী বিজয়ী ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কেজি নুরুজ্জামান ছিলেন, যিনি ২৩,০৭২ ভোটে জয়লাভ করেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের (মালেক) প্রার্থী আবিদ আলী, যিনি ২০,২৮৬ ভোট পেয়েছিলেন। এরপর থেকে এই আসনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করেছে।
লালমনিরহাট‑২ (আদিতমারী‑কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. রোকন উদ্দিন বাবুল ১,২৩,৯৪৬ ভোট নিয়ে প্রথম স্থান দখল করেন। জামায়াত-এ-ইসলামির মো. ফিরোজ হায়দার ১,১৭,২৫২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ হন, ফলে রোকন উদ্দিন বাবুল ৬,৬৯৪ ভোটের পার্থক্যে জয়ী হন।
এই আসনের ইতিহাসে ১৯৭৯ সালের একই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান ২২,৭২৬ ভোটে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের (মালেক) প্রার্থী শাহ আলম, যিনি ১৪,৩৯৫ ভোট পেয়েছিলেন; ফলে মজিবুর রহমান ৮,৩৩১ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন।
লালমনিরহাট‑৩ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু ১,৩৯,৬৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াত-এ-ইসলামির মো. আবু তাহের ৫৬,২৪৪ ভোট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে শেষ হন, ফলে দুলু প্রার্থী ৮৩,৪০৭ ভোটের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
এই আসনের পূর্বের বিজয়ী ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসাদুল হাবিব দুলু ছিলেন, যিনি ৬৩,৩৫৯ ভোটে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু সাঈদ দুলালকে পরাজিত করেন। ঐ সময়ে দুলাল ৪৫,০০০ ভোটের কাছাকাছি পেয়েছিলেন।
প্রতিটি আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহ করলেও, বিএনপির প্রার্থী প্রত্যেক ক্ষেত্রে দুই অঙ্কের পার্থক্যে অগ্রগতি দেখিয়েছেন। তাদের ভোটের পরিমাণ ও পার্থক্য স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, লালমনিরহাটে একসঙ্গে তিনটি আসনে জয়লাভ করা বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময়ের পর ফিরে আসা এই জয় দলকে জাতীয় পর্যায়ে পুনরায় প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে আসতে পারে এবং আসন্ন সংসদীয় সেশনে আইনসভার গঠন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অবশেষে, লালমনিরহাটের ভোটাররা ২০২৩ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের পছন্দ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন রূপ দেবে। ভবিষ্যতে এই ফলাফল কীভাবে অন্যান্য জেলায় প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



