28 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিত্রয়োদশ সংসদ শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত

ত্রয়োদশ সংসদ শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত

মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঢাকা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দেখা যাবে। অনুষ্ঠানে প্রায় ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবে।

সংসদ সচিবালয়ের জানামতে, শপথ অনুষ্ঠানের সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা, সিটিং ব্যবস্থা এবং মিডিয়া কভারেজের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও গার্ডের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, এবং জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে সরাসরি সম্প্রচার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নির্ধারিত সময়ে শুরু হবে।

এই শপথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমবারের মতো শপথ নেবে। একইসঙ্গে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ গ্রহণেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ধাপটি সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন দিক নির্দেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রচলিতভাবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হতো, তবে এবার ঐ রীতি ভেঙে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি সহজতর করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম. সিরাজ মিয়া পুরো শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। তিনি সকল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের তদারকি করবেন এবং অতিথি তালিকা, সময়সূচি ও প্রোটোকল অনুসরণে দায়িত্ব পালন করবেন। অনুষ্ঠানের সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ, তারপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ এবং শেষের দিকে বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানো হবে। তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠানটি নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে, আমন্ত্রিত বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। এ চারজন নেতার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়াবে।

এছাড়াও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ার পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।

আইন উপদেষ্টা রবিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিসরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ এবং মন্ত্রিপরিষদের গঠন দেশের নীতি দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষত, সংবিধান সংস্কার পরিষদের নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণ দেশের আইনগত কাঠামোতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।

বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল শপথ অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন এবং বিদেশি অতিথিদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়নি। সরকারী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকল প্রয়োজনীয় প্রোটোকল মেনে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হবে।

শপথ গ্রহণের পর নতুন সরকার দ্রুত নীতি বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, বিদেশি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক চুক্তি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আলোচনা চালু হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

সার্বিকভাবে, মঙ্গলবারের শপথ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যৎ সরকারের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments