১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে টাঙ্গাইলের দুটো গুরুত্বপূর্ণ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দুই ভাই একসঙ্গে জয়লাভ করে। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের বিজয়ী হিসেবে সাবেক উপমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নির্বাচিত হয়েছেন, যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অস্বাভাবিক একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
টাঙ্গাইল-২ আসনে আবদুস সালাম পিন্টু ১,৯৮,২১৩ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী হুমায়ুন কবির ৬০,৮৭১ ভোট সংগ্রহ করেন। মোট ১৩৯টি ভোটকেন্দ্র থেকে ৬৪.৫৬ শতাংশ ভোট গৃহীত হয়েছে, আর ৫,৫৫৫টি ভোট বাতিল করা হয়েছে। এই ফলাফল পিন্টুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচনী জয়ের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, এবং ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সালের পর থেকে ১৭ বছর কারাভোগের শাস্তি পেয়ে তিনি ২০২২ সালের শেষের দিকে রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসেন, যা তার পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার সংকেত দেয়।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ১,৩১,২৭৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ ৮০,৮২৩ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল ৬৯,৪০৮ ভোট সংগ্রহ করেন। মোট ৪,৬২,৪১২ ভোটারদের মধ্যে ৬৩.২৫ শতাংশ ভোট ব্যবহার করেছেন, এবং ৪,৪০১টি ভোট বাতিল হয়েছে। টুকু প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যদিও তিনি পূর্বে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।
দুই ভাইয়ের সমসাময়িক জয় টাঙ্গাইলের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করেছে। পিন্টু পূর্বে শিক্ষা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, আর টুকু প্রথমবারের মতো সংসদীয় কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। উভয়েরই নির্বাচনী জয় পারিবারিক সমন্বিত উন্নয়নের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিপক্ষ দল, আওয়ামী লীগ, ফলাফলের স্বচ্ছতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে মন্তব্য করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। তবে তারা নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকার করে, এবং সংসদে গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য এই দ্বৈত জয় কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। টাঙ্গাইলের দুইটি আসনে একসঙ্গে প্রতিনিধিত্ব পাওয়া দলকে পার্লামেন্টে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে সরকার-বিপক্ষের সমতা বজায় রাখতে। এছাড়া, এই ফলাফল দলীয় অভ্যন্তরীণ সংহতি ও নতুন নেতৃত্বের উত্থানকে শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
স্থানীয় ভোটাররা দুই ভাইয়ের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রত্যাশা করছেন। পিন্টুর পূর্ব অভিজ্ঞতা ও টুকুর তরুণ দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে অবকাঠামো, শিক্ষা ও শিল্পখাতে নতুন প্রকল্পের সূচনা আশা করা হচ্ছে। উভয়ই নির্বাচনের পরপরই তাদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নতুন সংসদে শীঘ্রই প্রথম সেশন শুরু হবে, যেখানে পিন্টু ও টুকু উভয়ই তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইন প্রণয়ন ও তদারকি কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তাদের পারস্পরিক সমন্বয় ও দলীয় সমর্থন কিভাবে পার্লামেন্টে প্রভাব ফেলবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবে।



