বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসন জয় করে সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৈধভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হবে, আর মন্ত্রিসভা শপথের সময়সূচি একই দিনে বিকেলে নির্ধারিত। শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় বিভিন্ন নেতা মন্ত্রিপদে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মন্ত্রিপরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় প্রধান মন্ত্রীর পদে কে আসবেন, কোন মন্ত্রীগণ দায়িত্বে থাকবেন ইত্যাদি বিষয়গুলোতে পার্টির অভ্যন্তরে সমন্বয় চলছে। একাধিক নেতা ইতিমধ্যে মন্ত্রিপদে নাম লেখাতে প্রস্তুত, যা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সর্বাধিক উল্লিখিত। একই সঙ্গে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানকেও আলোচনার তালিকায় দেখা যায়। উভয় নামই পার্টির উচ্চপদস্থদের মধ্যে রয়েছে।
বিশেষত খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামকে কেন্দ্র করে গঠন প্রক্রিয়ায় তীব্র আলোচনা চলছে। পার্টির অভ্যন্তরে তার প্রোফাইল ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রস্তাব করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা নতুন সরকারের গঠনের পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি গত ডিসেম্বর মাসে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করে ছিলেন যে, তিনি পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক।
বিএনপি গঠিত সরকার যদি ক্ষমতায় আসে, তবে পূর্বে বগুড়া শহরে অনুষ্ঠিত একটি পার্টি সমাবেশে জি এম সিরাজের বক্তব্য অনুসারে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হবেন। এই মন্তব্যগুলো পার্টির উচ্চপদস্থদের মধ্যে পূর্বাভাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বয়স বর্তমানে ৭৯ বছর এবং তিনি কুমিল্লা‑১ থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রবেশ করেছেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ (১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন) এবং ২০০১ সালে চারবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
শিক্ষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক। তার একাডেমিক পটভূমি ও গবেষণা কার্যক্রম তাকে রাজনৈতিক পরিসরে বিশেষভাবে স্বীকৃত করেছে।
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা নতুন সরকার গঠনের পর স্পষ্ট হয়ে উঠলে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুততর হতে পারে। তার ইচ্ছা প্রকাশের পর পার্টিগুলো ইতিমধ্যে বিকল্প প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান উভয়েরই উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শীর্ষ নির্বাহী কাঠামোর পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা বাড়বে।
পরবর্তী সপ্তাহে নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



