পিরোজপুর সদর উপজেলা ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি রোববার মধ্যরাতে এক দল গুলিবিদ্ধের মাধ্যমে এক বিএনপি নেতা ও তার ভাতিজাকে আক্রমণ করে। আহত দুজনের নাম হলেন সাবেক বিএনপি আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মল্লিক নাসির (নাসির মল্লিক) ও তার ভাইয়ের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু।
নাসির মল্লিক শংকরপাশা গ্রাম, মোদাহার এলাকার বাসিন্দা এবং রিয়াজ উদ্দিন মল্লিকের পিতার নাম শাহজাহান মল্লিক। দুজনই সন্ধ্যা শেষের দিকে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন যখন কয়েকটি মোটরসাইকেল থেকে দেশীয় অস্ত্রধারী আক্রমণকারী গোষ্ঠী হঠাৎ উপস্থিত হয়ে গুলি চালায়। গুলির ফলে দুজনের শরীরে একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাত হয়।
আক্রমণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তারেরা প্রাথমিক সেবা প্রদান করে, তবে আঘাতের তীব্রতা বিবেচনা করে দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
পিরোজপুর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান শেখ রুবেল ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করে জানান, “এ ধরনের হামলা নির্বাচনের পরই ঘটছে এবং এটি নির্বাচনী সহিংসতারই একটি উদাহরণ। লক্ষ্য ছিল হত্যার ইচ্ছা।” তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের ডাক্তারেরা, বিশেষ করে রাজিব পাইক, উল্লেখ করেন যে দুজনের শরীরে গভীর জখম রয়েছে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার পরই উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল, তবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ ও জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।” তিনি যোগ করেন, তদন্তের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের মতে, আক্রমণকারী গোষ্ঠী কয়েকটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা দেশীয় অস্ত্রধারী এবং গুলি চালানোর পর দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায়। তদন্তকর্তারা এখন গাড়ি নম্বর, গুলি চিহ্ন এবং সম্ভাব্য গোষ্ঠীর পরিচয় নির্ণয়ের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চলমান রয়েছে। নাসরিন জাহান জানান, “প্রাথমিক তদন্তে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সরাসরি জড়িততা দেখা যায়নি, তবে সব দিক থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর পিরোজপুরে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণও উদ্বেগ প্রকাশ করে, যাতে ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা না ঘটে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন থেকে বড় আকারের সমাবেশ ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই আক্রমণ স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের আইনি দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্টতা আসবে।



