অনন্যা বীরলা সম্প্রতি বীরলা স্টুডিও নামে একটি নতুন প্রোডাকশন হাউস চালু করেছেন, যা বাণিজ্যিক দিকের পাশাপাশি উচ্চ ধারণার চলচ্চিত্র তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, তিনি দেশের শীর্ষ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে নতুন প্রকল্পের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বীরলা স্টুডিওর সূচনা জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটি প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে যে, স্টুডিওটি হিন্দি, গুজরাটি, মালয়ালাম এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষা সহ আন্তর্জাতিক ইংরেজি সিনেমার জন্য বহুভাষিক পরিকল্পনা গড়ে তুলছে। এই বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকদের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সীমান্তে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্টুডিওটি শীঘ্রই তার আসন্ন প্রকল্পগুলোর তালিকা প্রকাশ করবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে, যা নতুন উদ্যোগের জন্য একটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে।
বীরলা স্টুডিওর প্রতিষ্ঠার পর থেকে, অনন্যা বীরলা বেশ কিছু প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে আলোচনা চালু করেছেন। বিশেষ করে, আনিস বাজমি, শুজিত সর্চার এবং নীরজ পাণ্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। এই তিনজনের কাজের প্রতি অনন্যার দীর্ঘদিনের প্রশংসা রয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, তাদের সৃজনশীলতা নতুন স্টুডিওর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আনিস বাজমি, শুজিত সর্চার এবং নীরজ পাণ্ডের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচকভাবে চলমান বলে জানানো হয়েছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়, তবে শীঘ্রই এই তিনজন পরিচালক বীরলা স্টুডিওর অধীনে কাজের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। এই সম্ভাব্য সহযোগিতা স্টুডিওকে বাণিজ্যিক সাফল্য ও সমালোচনামূলক স্বীকৃতি দুটোই অর্জনে সহায়তা করবে।
বীরলা স্টুডিওর লক্ষ্য হল এমন চলচ্চিত্র তৈরি করা যা সাংস্কৃতিক গুরুত্বের সঙ্গে বিনোদনের মান বজায় রাখে। একই সঙ্গে, নতুন প্রতিভা বিকাশ এবং বৈচিত্র্যময় কণ্ঠস্বরকে উত্থাপন করার জন্য একটি সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, স্টুডিওটি বিভিন্ন ধরণের জঁর অন্বেষণ এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চায়।
বীরলা স্টুডিওর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনন্যা বীরলা তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সিনেমা হল এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার মাধ্যমে গল্পগুলো তৎক্ষণাৎ সংযোগ গড়ে তোলে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। বীরলা স্টুডিওতে আমরা এমন চলচ্চিত্রের সংগ্রহ তৈরি করতে চাই, যা সাংস্কৃতিক তাৎপর্য এবং বিনোদনের মানকে একসাথে সংযুক্ত করে।” এই বক্তব্যে তিনি শিল্পের সকল স্তরের সদয়তা ও স্বাগতকে প্রশংসা করেছেন।
অনন্যা বীরলা আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল নতুন প্রতিভাকে সমর্থন করা, বিভিন্ন ধরণের গল্পকে উন্মোচন করা এবং বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিকোণকে মঞ্চে আনা। আমরা আশা করি, বীরলা স্টুডিও ভারতীয় সিনেমার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” তার এই মন্তব্য শিল্পের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
বলিউড হাঙ্গামা অনুসারে, বীরলা স্টুডিও বর্তমানে তার প্রথম ব্যানার প্রকল্পের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে। যদিও প্রকল্পের নাম ও বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে স্টুডিওটি শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবে।
বীরলা স্টুডিওর বহুভাষিক পরিকল্পনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি বিভিন্ন আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে। হিন্দি, গুজরাটি, মালয়ালাম এবং ইংরেজি ভাষায় চলচ্চিত্র তৈরি করে স্টুডিওটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে। এই কৌশলটি শিল্পের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, অনন্যা বীরলার এই উদ্যোগটি তার পূর্বের সঙ্গীত ও ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি ইতিমধ্যে সঙ্গীত শিল্পে বহু হিট গানের মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেছেন এবং এখন চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে তার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এই পরিবর্তনটি তার সৃজনশীল দিগন্তকে আরও বিস্তৃত করবে।
সারসংক্ষেপে, বীরলা স্টুডিও নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে। আনিস বাজমি, শুজিত সর্চার এবং নীরজ পাণ্ডের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি স্টুডিওকে বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক সাফল্যের দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে। অনন্যা বীরলার নেতৃত্বে, স্টুডিওটি বহুভাষিক, বৈচিত্র্যময় এবং নতুন প্রতিভা সমর্থনকারী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার ভবিষ্যত গড়ে তুলতে প্রস্তুত।



