১৩ ফেব্রুয়ারি মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকাল এবং তার নীতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা হয়। সম্মেলনে উপস্থিত উচ্চপদস্থ গণতান্ত্রিক দল ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করে, ইউরোপীয় অংশীদারিত্বের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তিনি কখনো শত্রু দেশকে কাছে টেনে নেন, আবার কখনো মিত্র দেশকে দূরে ঠেলে দেন। তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি কঠোর শুল্ক নীতি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউরোপের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মূল কারণগুলোতে শুল্ক নীতি, গ্রিনল্যান্ডের অধিকার এবং অন্যান্য কৌশলগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়গুলোতে মার্কিন সরকার এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ বাড়ছে, যা ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, গণতান্ত্রিক দলের শীর্ষ নেতারা ইউরোপীয় অংশীদারদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্পের শাসনকাল স্বল্পমেয়াদী এবং তিন বছরের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং ইউরোপের স্থিতিশীলতা রক্ষার ইচ্ছা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া গভার্নর গ্যাভিন নিউসম সম্মেলনে বিশেষভাবে উল্লেখ করে, বিশ্ব নেতাদেরকে ট্রাম্পবিহীন ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে বলেছিলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের মেয়াদ সাময়িক এবং তিন বছরের মধ্যে তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন, যদিও তার পতনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো বিশদ দেননি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেন। রুবিওর বক্তব্যের কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ছিল, তবে তার মন্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের সব উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। রুবিও ইউরোপীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও, ট্রাম্পের নীতির অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।
গণতান্ত্রিক দলের উচ্চপদস্থ সদস্যদের মধ্যে নিউসমের পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজও অংশ নেন। ওকাসিও-কর্টেজ ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সংলাপে জোর দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে এবং ট্রাম্পের স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপগুলোকে অতিক্রম করবে।
সম্মেলনে উপস্থিত গণতান্ত্রিক দলের প্রায় অর্ধডজন আইনপ্রণেতা, যারা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত, তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, বর্তমান উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই মহাদেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকা উচিত।
মার্কো রুবিওর বক্তব্যের পরেও ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রাম্পের নীতি নিয়ে সতর্কতা বজায় রেখেছে। রুবিও ইউরোপীয় উদ্বেগের পূর্ণ সমাধান দিতে পারেননি, ফলে গণতান্ত্রিক দলকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে ভূমিকা নিতে হবে।
নিউসমের জলবায়ু সংক্রান্ত বক্তৃতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি ট্রাম্পকে স্বল্পমেয়াদী নেতা হিসেবে দেখেন এবং তার শাসনকালের শেষের দিকে পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করেন। তবে তিনি ট্রাম্পের পতনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা সময়সীমা সম্পর্কে কোনো বিশদ তথ্য দেননি, যা ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।
মিউনিখের এই নিরাপত্তা সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের স্থিতিশীলতা রক্ষার ইচ্ছার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের নীতি ও তার সম্ভাব্য প্রস্থান নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা হয়, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



