টোকিওর জাপান সরকার ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পরিচালনাকে উচ্চ প্রশংসা করে, এবং ফলস্বরূপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তারেক রহমানকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে দেশের নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদান ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সফল বলে গণ্য করা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে দৃঢ় করেছে।
দূতাবাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নির্বাচন পরিচালনায় দেখা গিয়েছে উচ্চ মাত্রার স্বচ্ছতা, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।
বিশেষভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে এই নির্বাচনে অর্জিত অপ্রত্যাশিত জয়ের জন্য এবং দলটির সভাপতি তারেক রহমানকে তার নেতৃত্বের জন্য জাপান সরকার আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে।
এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নবনির্বাচিত সরকারের বৈধতা বাড়াবে বলে জাপান সরকার বিশ্বাস প্রকাশ করেছে, এবং দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
জাপান দূতাবাসের বিবৃতি আরও জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও মসৃণভাবে সম্পন্ন হবে এই প্রত্যাশা রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
দূতাবাসের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার জন্য ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, জাপান বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমর্থন অব্যাহত রাখবে, বিশেষ করে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন ক্ষেত্রেও জাপান দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক, যার মধ্যে সড়ক, সেতু, বন্দর ও জ্বালানি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।
কৌশলগত নিরাপত্তা ও সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতাও জাপান দূতাবাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই ক্ষেত্রে তথ্য ভাগাভাগি ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দূতাবাসের বিবৃতি শেষ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান তার সমর্থন ও সহযোগিতা পূর্বের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে বজায় রাখবে।
এই ঘোষণার পর, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জাপানের এই স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করেছে, এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন উচ্চতা অর্জনের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।



