26 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের বোর্ড অব পিস গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা...

ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস গাজা পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা নিশ্চিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজের জন্য নতুন গঠিত “বোর্ড অব পিস”-এর সদস্য দেশগুলোকে ৫ মিলিয়ন ডলার করে অর্থ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি জানান। এই প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

বোর্ড অব পিস, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টার জন্য গঠিত, এখন পর্যন্ত ২০টি দেশকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রতিটি দেশ থেকে ৫ কোটি ডলার সমর্থন প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা গাজার ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে পুনর্নির্মাণের জন্য প্রাথমিক তহবিল হিসেবে কাজ করবে।

ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক নেটওয়ার্ক “ট্রুথ সোশ্যাল”-এ পোস্টে তিনি বোর্ডকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংস্থা গাজা অঞ্চলের মানবিক সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান। যদিও তিনি গাজা পুনর্গঠনের জন্য কোন দেশ কত পরিমাণ অর্থ দেবে তা নির্দিষ্ট করে না, তবু তিনি নিশ্চিত করেন যে সদস্য দেশগুলো সমষ্টিগতভাবে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি তহবিল প্রদান করবে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সদস্য দেশগুলো তাদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবে। এই ঘোষণার পর গাজা অঞ্চলের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, বাসস্থানের পুনঃনির্মাণ এবং মৌলিক সেবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজা সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলে ব্যাপক ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে; হাজার হাজার পরিবার বাসস্থানের অভাবে ভুগছে এবং মৌলিক পরিষেবার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ত্বরিত সহায়তা চাওয়া হচ্ছে, এবং বোর্ড অব পিসের এই আর্থিক প্রতিশ্রুতি সেই চাহিদা মেটাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বোর্ডের প্রতিষ্ঠা পূর্বে জানুয়ারি মাসে ঘোষিত হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশকে মূল সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই সংস্থা গাজা পুনর্গঠন ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য নীতি নির্ধারণ এবং তদারকি করার দায়িত্ব পালন করবে।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পুনর্গঠনের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। গাজা পুনর্গঠন প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণকে কিছু বিশ্লেষকরা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।

অন্যদিকে, কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং মানবাধিকার সংস্থা গাজা পুনর্গঠন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকরী বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং প্রকল্পের সময়সূচি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে পুনর্গঠন কাজের ফলাফল বাস্তবিকভাবে জনগণের উপকারে আসে।

বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বোর্ড অব পিসের সদস্য দেশগুলো গাজা অঞ্চলে তহবিলের বিতরণ পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করবে। তদুপরি, পুনর্গঠন কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজা অঞ্চলের মানবিক সংকটের সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই তহবিলের ব্যবহার এবং প্রকল্পের ফলাফল গাজা জনগণের জীবনের মান উন্নত করতে কতটা সহায়ক হবে, তা সময়ই বলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments