26 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার ওপর চাপ না দেওয়ার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা

জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার ওপর চাপ না দেওয়ার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রোববার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাশিয়ার ওপর যথাযথ চাপ না দিয়ে কেবল ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বলার অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনায় পশ্চিমা দেশগুলো বারবার ইউক্রেনকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিতে অনুরোধ করছে, তবে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতি পরিবর্তনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে না।

জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো যে নমনীয়তার পরামর্শ দিচ্ছে, তা প্রায়শই একপাক্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অংশীদারদের বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিতে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “আপনারা রাশিয়ার কাছ থেকে কী ছাড় পেয়েছেন? পুতিনকে থামাতে কী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছেন?” এভাবে তিনি রাশিয়ার ওপর চাপ না দিয়ে ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বাধ্য করার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের কোনো আপস করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বাধ্য করা মানে রাশিয়ার আক্রমণকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই অবস্থান তার পূর্বের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাশিয়ার অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বলার পেছনে মূলত যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি ও মানবিক সংকট কমানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেন। তবে জেলেনস্কি এই পদ্ধতিকে ইউক্রেনের স্বার্থের ক্ষতি হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি রাশিয়াকে তার আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

ইউক্রেনের সরকার ইতিমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক সরবরাহ বাড়ানোই একমাত্র কার্যকর উপায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বে ইউক্রেনকে সমর্থন জানিয়ে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্ভবত ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো রক্ষার দিকে মনোযোগ দেবে।

জেলেনস্কি এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে, সামরিক সহায়তা বাড়াতে এবং রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতি পরিবর্তনে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে বলছেন।

এই অভিযোগের পর মার্কিন নীতিনির্ধারকরা কীভাবে সাড়া দেবেন তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। যদি যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ইউক্রেনের শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়তে পারে এবং যুদ্ধের সময়সীমা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশ ইতিমধ্যে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রাশিয়ার শক্তি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কিছু দেশকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছে, যা নীতি নির্ধারণে জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার ওপর যথাযথ চাপ না দিয়ে ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বাধ্য করা কেবল ইউক্রেনের স্বার্থের ক্ষতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের নীতিকেও ক্ষুণ্ন করে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নীতি পরিবর্তন না হয়, তবে ইউক্রেনের সরকারকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আরও কঠিন শর্ত গ্রহণ করতে হতে পারে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ভূখণ্ডগত আপস স্বীকার করা হবে না।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়বে বলে আশা করা যায়। ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো দেশগুলোকে রাশিয়ার ওপর সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

শেষে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার ওপর দৃঢ় অবস্থান নিতে এবং ইউক্রেনকে ছাড় দিতে না বলার জন্য আহ্বান জানান। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষা না করা মানে রাশিয়ার আক্রমণকে স্বীকৃতি দেওয়া। এই অবস্থান ভবিষ্যতে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments