গৃহীত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখিয়েছে। বৃহস্পতিবারের ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর রবিবারের লেনদেনের শুরুর মুহূর্ত থেকেই সূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পায় এবং দিনের শেষে ৫,৬০০ পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছে।
প্রথম ঘন্টার লেনদেনে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে, যা বাজারে তীব্র ক্রয়‑বিক্রয়ের ইঙ্গিত দেয়। ডিএসই সূচক এক ঘণ্টার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করে, ফলে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ইতিবাচক দিকের দিকে ঝুঁকে যায়।
ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৯৪টি কোম্পানির মধ্যে ৩৬৪টি, অর্থাৎ প্রায় ৯২ শতাংশের শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ২৬টি শেয়ার, প্রায় ৭ শতাংশ, মূল্য হ্রাস পায় এবং মাত্র চারটি শেয়ারই অপরিবর্তিত থাকে। শেয়ারবাজারের এই বিস্তৃত উত্থান ডিএসইয়ের মোট বাজার মূলধনে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার বৃদ্ধি ঘটিয়ে, মোট ৭,২১,২৮২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ডিএসই‑৩০ সূচক, যা বাজারের শীর্ষ ৩০টি কোম্পানির পারফরম্যান্সের সূচক, ৮৬ পয়েন্ট, প্রায় ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসই শারিয়াহ সূচকও ৩০ পয়েন্ট, প্রায় ৩ শতাংশের ঊর্ধ্বগতি দেখিয়েছে, যা ইসলামী শেয়ারবাজারের সক্রিয়তা নির্দেশ করে।
বাজারে লেনদেনের তীব্রতা এবং শেয়ারমূল্যের সামগ্রিক বৃদ্ধি নির্বাচন‑পরবর্তী অনিশ্চয়তা দূর হওয়ার ফলে ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন। নির্বাচনের আগে ব্যবসায়ী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময়ের দ্বিধা ও স্থবিরতার মুখে ছিলেন, তবে শান্তিপূর্ণ ভোটের পর স্বস্তি ফিরে এসে নতুন মূলধন প্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে।
ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, বিশ্বব্যাপী যখন জনগণের ভোটে সরকার গঠিত হয়, তখন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। বাংলাদেশেও আজকের সূচক উত্থান এই প্রবণতার প্রতিফলন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন‑পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে বহু নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে প্রবেশ করেছে, যা লেনদেনের পরিমাণ ও শেয়ারমূল্যের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে বাজারের প্রবণতা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন। যদিও বর্তমান উত্থান স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক মনোভাবকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিবেশ, মুদ্রা নীতি ও স্থানীয় নীতি পরিবর্তনের প্রভাব শেয়ারবাজারে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সংক্ষেপে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসই সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৫,৬০০ পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেছে, লেনদেনের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকার উপরে, এবং অধিকাংশ শেয়ারই মূল্যবৃদ্ধি দেখিয়েছে। বাজারের এই উত্থান নির্বাচন‑পরবর্তী স্বস্তি ও নতুন মূলধনের প্রবাহের ফলাফল, তবে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি ও পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক শর্তের প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা প্রয়োজন।



