বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য রমজান ২০২৬ সালের সূচনা চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। এই বছরের রোজা সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতুর পার্থক্যের ফলে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য দেখা যাবে।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিন থেকে সিয়াম (উপবাস) শুরু হবে এবং সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা বজায় থাকবে। তবে এই সময়সীমা দেশভেদে অর্ধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টার মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশ্বব্যাপী রোজা সময়ের সর্বনিম্ন সীমা প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা, আর সর্বোচ্চ সীমা সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাবে। উত্তর গোলার্ধের অধিকাংশ দেশে রোজা সময় তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হবে।
ইসলামিক ফাইন্ডার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের মুসলিমরা ২০২৬ রমজানে সর্বোচ্চ রোজা সময়ের মুখোমুখি হবে। তাদের পরেই চিলি, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় রোজা সময় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা হবে। এই দেশগুলোতে শীতল শীতকালের কাছাকাছি রমজান পড়ার ফলে রোজা পালন তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউরোপ ও মেরু অঞ্চলের দেশগুলোতে রোজা সময় সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত হবে। ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে রোজা রাখবে। এই অঞ্চলগুলোতে দিন-রাতের পার্থক্য কম হওয়ায় রোজা সময় স্বল্প থাকে।
আরব দেশগুলোতে রোজা সময় সাড়ে ১২ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রোজা সময় প্রায় ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ ঘণ্টা হবে, যা দেশের গড় রোজা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চাঁদবছরের হিসাব অনুযায়ী, রমজান শীতের কাছাকাছি সময়ে পড়বে, ফলে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, শীতল আবহাওয়া রোজাদারদের জন্য রোজা পালনকে সহজতর করবে এবং গরমের ঝুঁকি কমাবে।
একজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “রোজা সময়ের এই বৈচিত্র্য শুধুমাত্র ভৌগোলিক অবস্থানের ফল নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।” তিনি যোগ করেন, ভবিষ্যতে উত্তরের দেশগুলোতে রোজা সময় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে, আর দক্ষিণের দেশগুলোতে তা হ্রাস পাবে।
কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, রমজান সময়সূচি নির্ধারণে চাঁদ দেখার পদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক হিসাবের সমন্বয় আন্তর্জাতিক সমঝোতার বিষয়। কিছু দেশ ঐতিহ্যবাহী চাঁদ দেখার পদ্ধতি বজায় রাখলেও, অন্যরা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে। এই পার্থক্য কখনও কখনও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সময়সূচি সমন্বয়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।
আঞ্চলিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে, রমজান সময়ের পার্থক্য নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দীর্ঘ রোজা সময়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে রাত্রিকালীন শিফট বাড়াতে হয়, যা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ রমজান বিশ্বব্যাপী রোজা সময়ের বিশাল বৈচিত্র্য প্রদর্শন করবে। নিউজিল্যান্ডের মুসলিমরা সর্বোচ্চ রোজা সময়ের মুখোমুখি হবে, আর ফিনল্যান্ডের মুসলিমরা সর্বনিম্ন সময়ে রোজা রাখবে। এই পার্থক্য সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময়ের পার্থক্য, ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঋতুর প্রভাবের ফল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই তথ্যগুলো কূটনৈতিক সমন্বয়, মানবিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে।



