ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, যা সাতটি কলেজকে একত্রিত করে গঠিত নতুন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তার প্রথম উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এ.এস. মো. আবদুল হাছিবকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
প্রজ্ঞাপনটি রোববারের শেষ ভাগে প্রকাশিত হওয়ার কথা জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট নথি সোমবার সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড হবে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া গতকাল সন্ধ্যায় সম্পন্ন হয়েছে এবং তা দ্রুতই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাতটি স্বতন্ত্র কলেজকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার পরিবেশ উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন উপাচার্যকে চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। মেয়াদ শেষে পুনর্নিয়োগ বা পরিবর্তনের সম্ভাবনা মন্ত্রণালয়ের নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
এ.এস. মো. আবদুল হাছিব পূর্বে বুয়েটের স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ডিন হিসেবে তিনি গবেষণা ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ চালু করেছিলেন। তার এই অভিজ্ঞতা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুয়েটের ডিন পদে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং গবেষণা প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে শৈল্পিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। এই পটভূমি তাকে নতুন প্রতিষ্ঠানের শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে।
উপাচার্যের মেয়াদ চার বছর নির্ধারিত হলেও, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য উভয়ই প্রয়োজনীয় মনে করলে যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিলের অধিকার রাখবেন। এই বিধানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও ন্যায়সঙ্গত পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য রাখা হয়েছে।
নতুন উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো, প্রশাসনিক নীতি এবং গবেষণা দিকনির্দেশনা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ল্যাব, লাইব্রেরি এবং ডিজিটাল সেবা স্থাপনের পরিকল্পনা করবেন বলে অনুমান করা যায়।
প্রথম উপাচার্য হিসেবে তার কাজের মধ্যে শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্রুতই স্থান পাবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনটি একটি নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে। নতুন ক্যাম্পাসে আধুনিক সুবিধা, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সহজলভ্য হবে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত নতুন নিয়মাবলী ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ গঠনে উপাচার্যের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ, তবে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণও সমানভাবে প্রয়োজন। আপনার ক্যারিয়ার লক্ষ্য যদি গবেষণা বা উচ্চশিক্ষা হয়, তবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত কোর্স ও স্কলারশিপের দিকে নজর দিন।
আপনার মতামত কী? নতুন উপাচার্যের দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিকল্পনা আপনার শিক্ষাগত লক্ষ্যকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে মন্তব্য করুন।



