26 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবিদেশ থেকে ফেরার সময় শুল্ক দিয়ে টিভি‑ফ্রিজ‑এয়ারকন্ডিশনারসহ ১১টি পণ্য আনা যাবে

বিদেশ থেকে ফেরার সময় শুল্ক দিয়ে টিভি‑ফ্রিজ‑এয়ারকন্ডিশনারসহ ১১টি পণ্য আনা যাবে

বিদেশে কাজ বা ভ্রমণ শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা যাত্রীদের জন্য কাস্টমসের নতুন ব্যাগেজ রুলে নির্দিষ্ট গৃহস্থালি ও মূল্যবান পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে। শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে ১১টি পণ্য ক্যাটেগরি সীমা অতিক্রম না করলে কোনো লেটার অফ ক্রেডিট (এলসি) ছাড়াই আনা সম্ভব। এই নিয়মের লক্ষ্য হল ভ্রমণকারীদের উপহার ও ব্যক্তিগত ব্যবহারিক সামগ্রীকে স্বচ্ছভাবে বাজারে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করা, একইসাথে দেশের রেভিনিউ রক্ষা করা।

প্রথমে টেলিভিশন নিয়ে আলোচনা করা যায়। ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত এলইডি, প্লাজমা, এলসিডি বা টিএফটি টিভি শুল্কমুক্ত। তবে ৩০ ইঞ্চি অতিক্রম করলে সাইজ অনুযায়ী শুল্ক বাড়ে: ৩০‑৩৬ ইঞ্চি টিভির জন্য ১০,০০০ টাকা, ৩৭‑৪২ ইঞ্চি জন্য ২০,০০০ টাকা, ৪৩‑৪৬ ইঞ্চি জন্য ৩০,০০০ টাকা, ৪৭‑৫২ ইঞ্চি জন্য ৫০,০০০ টাকা, ৫৩‑৬৫ ইঞ্চি জন্য ৭০,০০০ টাকা এবং ৬৫ ইঞ্চি ঊর্ধ্বে ৯০,০০০ টাকা শুল্ক ধার্য হবে।

সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য মিউজিক সিস্টেম ও হোম থিয়েটার সেটের শুল্ক নির্ধারিত হয়েছে। সর্বোচ্চ আটটি স্পিকারের সমন্বয়ে গঠিত সিস্টেম, সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি, এলডি, এমডি ও ব্লু‑রে ডিস্কের প্যাকেজ একসাথে আনা হলে ৮,০০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে।

রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজারও শুল্কের আওতায় রয়েছে। এই দুই ধরনের বড় গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি আনার জন্য ৫,০০০ টাকা শুল্ক নির্ধারিত, যা তুলনামূলকভাবে কম এবং ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প।

এয়ার কুলার ও এয়ার কন্ডিশনারের ক্ষেত্রে শুল্কের পার্থক্য সাইজ ও ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। উইন্ডো‑টাইপ এয়ার কুলারের জন্য ৭,০০০ টাকা, স্প্লিট‑টাইপ এয়ার কন্ডিশনারের ১৮,০০০ বিটিইউ পর্যন্ত মডেলের জন্য ১৫,০০০ টাকা, এবং ১৮,০০০ বিটিইউ ঊর্ধ্বে মডেলের জন্য ২০,০০০ টাকা শুল্ক ধার্য হবে।

ডিশ অ্যান্টেনা আনার ক্ষেত্রে ৭,০০০ টাকা শুল্ক আরোপিত। এই শুল্কটি টেলিভিশন গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় স্যাটেলাইট ডিশের উপর প্রযোজ্য এবং বাজারে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত।

মূল্যবান ধাতু সংক্রান্ত বিধানেও স্পষ্টতা দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে বছরে একবার সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণবার আনা সম্ভব, যেখানে প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রাম (এক ভরিতে) শুল্ক ৫,০০০ টাকা। রূপার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের বার আনা যাবে, এবং একই ভরিতে শুল্ক মাত্র ৬ টাকা নির্ধারিত। এই নীতিমালা উচ্চমূল্যের ধাতু রপ্তানি-আমদানি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ডিএসএলআর ক্যামেরা ও অন্যান্য ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সের জন্যও শুল্কের কাঠামো নির্ধারিত, যদিও নির্দিষ্ট পরিমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই পণ্যগুলোও ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা যাবে, শুল্ক পরিশোধের পরে কোনো অতিরিক্ত অনুমোদন প্রয়োজন হবে না।

এই শুল্ক নীতি প্রতি দুই বছর পরপর আপডেট হয়, যা বাজারের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুল্কের পরিমাণ ও পণ্যের তালিকা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ায় ভ্রমণকারীরা পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করতে পারেন এবং অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারেন।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই রুলের ফলে ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালি পণ্যের চাহিদা বাড়তে পারে, বিশেষত উচ্চমানের টিভি ও এয়ার কন্ডিশনারের ক্ষেত্রে। একইসাথে, শুল্কের মাধ্যমে সরকারী আয় বৃদ্ধি পাবে, যা অবকাঠামো ও জনসেবা উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুল্কের উচ্চমাত্রা, বিশেষত বড় সাইজের টিভি ও এয়ার কন্ডিশনারে, স্থানীয় উৎপাদনকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে দেশীয় নির্মাতাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ভবিষ্যতে শুল্কের হার ও পণ্যের সীমা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা করা যায়। বর্তমান নীতির ভিত্তিতে, ভ্রমণকারীরা শুল্ক পরিশোধের মাধ্যমে নিরাপদে এবং স্বচ্ছভাবে পণ্য আনা সম্ভব, যা বাণিজ্যিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments