দিল্লির তিহার জেলে অভিনেতা রাজপাল যাদব এখনও আটক আছেন, এ বিষয়ে তার স্ত্রী রাধা যাদবের কাছ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। রাধা জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে তার স্বামী জেল থেকে বের হননি এবং বেইল শুনানি সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরনো একটি ভিডিওতে রাজপাল যাদব সালমান খানকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা গিয়েছিল, যা থেকে কিছু ভক্তের মধ্যে মুক্তির গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুনরায় দেখা যাওয়ায় অনেকেই ধারণা করেন যে শিল্পীকে কোনো রকম সাহায্য বা রিলিফ পাওয়া গেছে।
রাধা যাদব গুজবের খারিজের পর তার স্বামীর স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আপডেট দেন। তিনি বলেন, “যা আমি জানি, তিনি ঠিকঠাক আছেন।” এভাবে তিনি ভক্তদের আশ্বাস দেন যে স্বাস্থ্যের কোনো গুরুতর সমস্যা নেই।
পরিবারের ঐক্য বজায় রয়েছে, রাধা উল্লেখ করেন যে এই কঠিন সময়ে পুরো পরিবার একসাথে আছে। তিনি চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মী ও ভক্তদের সমর্থন ও ভালবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যা তাদের মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কিছু মিডিয়া সূত্রে বলা হয়েছে যে সালমান খান, সোনু সুড এবং অজয় দেবগণ রাজপালের আর্থিক সমস্যায় সাহায্য করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে রাধা এই তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করেননি এবং কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করতে অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “অনেক শিল্পী এই সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তবে এখন নাম ও পরিমাণ প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” এভাবে তিনি গোপনীয়তা রক্ষা করে শিল্পীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেন।
রাজপাল যাদবের আইনি সমস্যার মূল কারণ ২০১০ সালে তার পরিচালনায় করা ‘আটা পাতা লাপাতা’ ছবির জন্য নেওয়া পাঁচ কোটি রুপি ঋণ। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় পরিশোধে দেরি হয় এবং আদালতে দীর্ঘায়িত লড়াই শুরু হয়।
বছরের পর বছর ধরে সুদসহ মোট ঋণ প্রায় নয় কোটি রুপিতে পৌঁছায়। আদালত উল্লেখ করেছে যে, যদিও কিছু টাকা জমা হয়েছে, তবু বাকি পরিমাণ উল্লেখযোগ্য এবং তা পরিশোধ না হওয়ায় রাজপালকে আত্মসমর্পণ করতে হয়।
অধিকাংশ টাকা এখনও বাকি থাকায় তিনি জেলে আত্মসমর্পণ করেন এবং বর্তমানে তিহার জেলে আটক আছেন। আদালতে তার বেইল শোনার জন্য নির্ধারিত তারিখের অপেক্ষা করা হচ্ছে, যা তার মুক্তির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাধা যাদব আশাবাদী যে শীঘ্রই এই মামলাটি সমাধান হবে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি শীঘ্রই তিনি মুক্তি পাবেন।” এভাবে তিনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
ভক্ত ও শিল্প জগতের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে, এবং সবাই রাজপাল যাদবের দ্রুত মুক্তি ও আইনি সমস্যার সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছেন। এই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কীভাবে সমাধান হবে, তা আগামী সপ্তাহের আদালত শোনার ফলাফলে নির্ভর করবে।



