26 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকারের বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্ক হ্রাস ও শূন্য শুল্ক...

বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকারের বাণিজ্য চুক্তিতে শুল্ক হ্রাস ও শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত

বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন সরকার সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির কিছু মূল ধারা প্রকাশ করেছে। চুক্তির অধীনে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে কমে গেছে, যা নয় মাসের আলোচনা শেষে অর্জিত হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও সিন্থেটিক ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি করা পোশাকগুলো এখন মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানি করা যাবে। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের রেডি-মেড গার্মেন্টস শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিয়ে আসে।

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। শুল্ক হ্রাসের ফলে এই অনুপাত আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ২,৫০০ পণ্যের উপর শূন্য শুল্ক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি, হস্তশিল্প এবং কিছু হালকা শিল্প পণ্য অন্তর্ভুক্ত, যা রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে সাহায্য করবে।

অন্যদিকে, মার্কিন সরকারও বাংলাদেশে ৭,০০০টিরও বেশি ট্যারিফ লাইন শুল্কমুক্ত করার অনুমতি পেয়েছে। এই পণ্যগুলোর শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো হবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ সরকার চুক্তিটিকে দেশের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার, বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

পটভূমি হিসেবে, ২ এপ্রিল ২০২৫-এ ওয়াশিংটন বেশ কয়েকটি দেশের ওপর, বাংলাদেশসহ, পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করে। এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহারের জন্য আলোচনার আহ্বান জানায়।

আলোচনা শেষে ৩০ আগস্ট বাংলাদেশে শুল্ক হার ২০ শতাংশে নির্ধারিত হয়। এরপর নৌমাসিক কাঠামো অনুসরণ করে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে গঠিত দলটি অতিরিক্ত নয় মাসের কাঠামোগত আলোচনার মাধ্যমে শুল্ককে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনে।

এই আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহায়তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চুক্তির সফলতা নিশ্চিত করেছে।

চুক্তির পরিধি পণ্য ও সেবা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সুবিধা, উৎপত্তি নিয়ম, স্যানিটারি ও ফিটনেস (SPS) ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত বাধা, বিনিয়োগ, ই‑কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা এবং স্বচ্ছতা ইত্যাদি বিস্তৃত ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ WTO ও ILO চুক্তির অধীনে ইতিমধ্যে যে বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছে, তার ফলে নতুন কোনো শর্ত আরোপিত হয়নি। এই বিষয়টি চুক্তির স্বচ্ছতা ও পূর্বাভাসযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে।

সামগ্রিকভাবে, শুল্ক হ্রাস ও শূন্য শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের রেডি-মেড গার্মেন্টস শিল্পের রপ্তানি দিককে শক্তিশালী করবে, নতুন পণ্যের বাজার উন্মুক্ত করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। ভবিষ্যতে এই চুক্তি ভিত্তিক রপ্তানি প্রবাহের বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ার সম্ভাবনা উঁচুতে রয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments