কলম্বোতে অনুষ্ঠিত আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপে ভারত ক্রিকেট দল ৬১ রানের পার্থক্যে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে পরাজিত করে সুপার ইটের স্থান নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি রবিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দলের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও একতরফা ফলাফল দেখায়।
ভারত ১৭৫/৭ স্কোরে টার্গেট স্থাপন করে, যেখানে ইশান কিশানের ৭৭ রান দলকে দ্রুত শুরুর সুবিধা দেয়। সুর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিকভাবে রানের প্রবাহ বজায় রাখে এবং শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানে সীমাবদ্ধ থাকে।
পাকিস্তান ১৭৬ রানের লক্ষ্য পূরণে প্রথম ওভারে হার্ডিক পাণ্ড্যা তৎক্ষণাৎ সাহিবজাদা ফারহানকে ডাকের মতো আউট করে, যা পাকিস্তানের শুরুর শটকে দুর্বল করে দেয়। পাণ্ড্যার এই প্রারম্ভিক উইকেটটি দলের আত্মবিশ্বাসকে নষ্ট করে দেয়।
জাসপ্রিত বুমরা পরের বলেই সাইম আয়ুবকে সরাসরি গুলিবিদ্ধ করে, এবং পরের ওভারে ক্যাপ্টেন সালমান আঘাকে আউট করে, ফলে পাকিস্তান ১৩ রানে ৩ উইকেট হারায়। বুমরার ধারাবাহিক আউটিং পাকিস্তানের শিকড়কে আরও গভীর করে।
অ্যাক্সার প্যাটেল বাম্বার আজমকে মাত্র পাঁচ রানে আউট করে, যার ফলে পাকিস্তান ৩৪/৪ স্কোরে আটকে যায়। বাম্বার আজমের দ্রুত আউট হওয়া দলের মাঝারি শটকে থামিয়ে দেয়।
উসমান খান ৩৪ বলে ৪৪ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ দেখালেও, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে সবআউট হয়। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন‑আপের শেষের দিকে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে, যা স্কোরকে দ্রুত কমিয়ে দেয়।
প্রাক্তন ভারত স্পিনের কিংবদন্তি অনিল কুম্বল ম্যাচের পর প্রকাশ করেন, “এটি কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না; ভারতীয় বোলাররা বেশি ভাল বোলিং করেছে, হার্ডিক পাণ্ড্যা প্রথম বলেই শুরুর শট নিয়েছে, আর জাসপ্রিত বুমরা সত্যিকারের ক্লাসের খেলোয়াড়।” তার মন্তব্যে ভারতীয় বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রাক্তন ভারত পেস বোলার ইরফান পাঠানও একই মত প্রকাশ করেন, “এখন আর ভারত‑পাকিস্তান মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই; আমরা মাঠের বাইরে যা ঘটছে তারই কথা বলি।” তিনি বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তনকে তুলে ধরেছেন।
প্রাক্তন ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন মাইকেল ভনওয়ানও টুইটে উল্লেখ করেন, “ভারত ক্রিকেট দল মাঠে পাকিস্তানকে ভয় দেখাচ্ছে, সব দিকেই তারা বেশি শক্তিশালী এবং বড় মুহূর্তে মানসিকভাবে প্রস্তুত।” তার মন্তব্যে ভারতের সামগ্রিক শক্তি ও মানসিকতা তুলে ধরা হয়েছে।
ইতিহাসের দিক থেকে দেখা যায়, টি২০ বিশ্বকাপে ভারত ক্রিকেট দল কখনোই পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে হারায়নি এবং এই জয়টি তাদের ষষ্ঠ ধারাবাহিক টি২০ আন্তর্জাতিক জয় হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে কোনো দলই একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি জয় অর্জন করেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ক্রিকেট দল সুপার ইটের গ্রুপে অগ্রসর হয় এবং পরবর্তী রাউন্ডে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে। দলটি এখন শীর্ষ ফর্মে রয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ম্যাচের পর বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদিও ঐতিহাসিকভাবে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, তবে বর্তমান ফলাফল দেখায় যে ভারত ক্রিকেট দল সব দিকেই বেশি আধিপত্য বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতে এই পার্থক্য কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা দেখার অপেক্ষা রয়ে গেছে।



