যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে ক্যাথে হোমের ‘Swift Home’ নামের ট্রেডমার্ক আবেদন শেষ সপ্তাহে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে পপ গায়িকা টেইলর সুইফটের দল কর্তৃক করা আপিলের প্রভাব রয়েছে, যা গ্রাহকদের বিভ্রান্তি রোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
ক্যাথে হোম, যা প্রধান রিটেইল চেইনগুলোর মাধ্যমে গৃহস্থালী পণ্য বিক্রি করে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে ‘Swift Home’ নামে বেডিং সিরিজের জন্য ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে শাখা সমৃদ্ধ এবং তার পণ্যসমূহের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম গড়ে তুলতে চেয়েছিল।
টেইলর সুইফটের প্রতিনিধিরা ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে কোম্পানির আবেদনকে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানায়। নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, ‘Swift Home’ শব্দটি গায়িকার নিবন্ধিত ডিজাইন ও নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, ফলে গ্রাহকরা গায়িকাকে পণ্যের সমর্থক হিসেবে ভুলভাবে ধারণা করতে পারে।
সুইফটের দল যুক্তি দেয় যে, ক্যাথে হোমের ব্র্যান্ডিংয়ে ‘Swift’ শব্দের স্টাইল গায়িকার নিজস্ব কুর্সিভ চিহ্নের নিকটবর্তী, যা একটি ‘মিথ্যা সংযোগ’ তৈরি করে এবং গায়িকার সুনাম ও স্বীকৃতি ব্যবহার করার উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। এ ধরনের ব্যবহার গ্রাহকের বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তারা সতর্কতা প্রকাশ করে।
ক্যাথে হোমের আইনজীবী তিং গেং গেং অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের পক্ষ থেকে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর ট্রেডমার্ক আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এমন সিদ্ধান্ত প্রায়শই বাস্তবিক ও বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিযুক্ত হয়।
গেং আরও জানান যে, ক্যাথে হোম পূর্বে সুইফটের দল সঙ্গে একটি ‘সমঝোতা-সহাবস্থান’ চুক্তি করেছে, যেখানে অন্য একটি নিবন্ধিত ‘Swift Home’ চিহ্নের ব্যবহার নিয়ে পারস্পরিক সমঝোতা করা হয়েছিল। এই চুক্তি দুই পক্ষের মধ্যে নির্দিষ্ট পণ্যশ্রেণিতে সংঘাত এড়াতে সহায়তা করেছিল।
ক্যাথে হোমের আবেদন মূলত বেডিং পণ্যের জন্য ছিল, তবে কোম্পানি অন্যান্য গৃহস্থালী সামগ্রীও উৎপাদন ও বিক্রয় করে। তাদের উত্তর আমেরিকা ও চীনের অফিসগুলো আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে আবেদন প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, ক্যাথে হোমের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনি বিরোধ এড়াতে নেওয়া হয়েছে। ট্রেডমার্কের অনুমোদন না পেলে কোম্পানি তার পণ্যব্র্যান্ডিং পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
টেইলর সুইফটের ট্রেডমার্ক পোর্টফোলিওতে তার নাম, আদ্যক্ষর, অ্যালবাম শিরোনাম এবং কিছু গানের লিরিক্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যান্য বিচারব্যবস্থায় মোট ৩০০টিরও বেশি ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করেছেন, যা তার সঙ্গীত, পোশাক, বেডিং এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর বিস্তৃত সুরক্ষা প্রদান করে।
এই ট্রেডমার্কগুলো ফেডারেল স্তরে সুরক্ষিত, যার ফলে তৃতীয় পক্ষের কোনো অননুমোদিত ব্যবহার আইনি পদক্ষেপের আওতায় পড়ে। সুইফটের দল এই সুরক্ষাকে ব্যবহার করে তার ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা ও গ্রাহক বিশ্বাস বজায় রাখতে সচেষ্ট।
গায়িকার নেট ওয়ার্থের আনুমানিক পরিমাণ উল্লেখযোগ্য, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তার বিস্তৃত ট্রেডমার্ক সংগ্রহ এবং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা তাকে বিনোদন শিল্পের অন্যতম উচ্চমূল্য সম্পদধারী ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে।
এই ঘটনার পর, ট্রেডমার্ক বিরোধে জড়িত অন্যান্য কোম্পানিগুলোও সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে, বিশেষত যখন তারা কোনো সেলিব্রিটি বা প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে পণ্য লেবেলিং করে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের বিরোধ সমাধানে পারস্পরিক সমঝোতা ও আইনি পরামর্শের গুরুত্ব বাড়বে।



