হলিউডের ২০২৬ স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডে রোজ বার্নি ‘If I Had Legs I’d Kick You’ ছবির জন্য সেরা প্রধান অভিনয়ের পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। অনুষ্ঠানটি ৪১তম বার্ষিক স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় এবং বার্নি এই স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় বার্নি তার লেখক-নির্দেশক মেরি ব্রনস্টেইনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আট বছর ধরে এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে তিনি যে সংগ্রাম করেছেন তা অবহেলিত হতে পারে না। তিনি ছবির গভীর ব্যক্তিগত দিককে তুলে ধরে মেরির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আন্তরিকভাবে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, মেরি’ বলে উল্লেখ করেন।
‘If I Had Legs I’d Kick You’ একটি স্বাধীন চলচ্চিত্র, যেখানে চরম পরিস্থিতিতে পিতামাতার ভূমিকা এবং অস্তিত্বগত প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলা হয়েছে। মেরি ব্রনস্টেইনের লেখক-নির্দেশক দৃষ্টিভঙ্গি ছবিটিকে এক অনন্য মানসিক জগতে স্থাপন করেছে, যেখানে মা হওয়ার চাপে সৃষ্ট একাকিত্ব ও দায়িত্বের ভার স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এই বছরের সেরা প্রধান অভিনয়ের ক্যাটেগরিতে বার্নির সঙ্গে ছিলেন এভারেট ব্লাঙ্ক (The Plague), ক্যাথলিন চ্যালফ্যান্ট (Familiar Touch), চ্যাং চেন (Lucky Lu), জোয়েল এডগার্টন (Train Dreams), ডিলান ও’ব্রায়েন (Twinless), কেকি প্যালমার (One of Them Days), থিওডোর পেল্লেরিন (Lurker), টেসা থম্পসন (Hedda) এবং বেন হোয়াশ (Peter Hujar’s Day)।
হলিউড রিপোর্টারের প্রধান চলচ্চিত্র সমালোচক রোডনি ছবির পর্যালোচনায় বার্নির অভিনয়কে উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার পারফরম্যান্সটি তীব্র ও গভীর, যা মায়ের উপর আরোপিত চাপ ও একাকিত্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে, এবং ছবির দৃশ্যগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
জানুয়ারিতে বার্নি গ্লোবাল গ্লোবসের সেরা অভিনেত্রী (মিউজিক্যাল বা কমেডি) পুরস্কার জিতেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে তার সঙ্গী ববি কানাভালের সঙ্গে ডেট না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন, কারণ তিনি নতুন পোষা প্রাণী—একটি বিয়ার্ডেড ড্রাগন—নিয়ে নিউ জার্সির রেপটাইল এক্সপোতে গিয়েছিলেন। এই মন্তব্যের পর দর্শকরা হাসিতে ভরে উঠেছিল, যা অনুষ্ঠানের মেজাজকে হালকা করে তুলেছিল।
গত বছরের স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডে মিকি ম্যাডিসন সেরা প্রধান অভিনয়ের পুরস্কার জিতেছিলেন, যেখানে তিনি সীন বেকারের ‘Anora’ ছবিতে তার পারফরম্যান্সের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এই তথ্যটি এই বছরের বিজয়ীর সঙ্গে তুলনা করে শিল্পের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।
স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডের নীল কার্পেটে উপস্থিত শিল্পীরা বিভিন্ন রঙের পোশাক ও স্টাইল দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেছেন, যা ইন্ডি চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা ও বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। বার্নি তার সরল কিন্তু মার্জিত পোশাকের মাধ্যমে নিজস্ব শৈলী বজায় রেখেছেন।
এই পুরস্কার জয় বার্নির ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি তাকে স্বাধীন চলচ্চিত্রের জগতে আরও স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। তার ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে এই স্বীকৃতি নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে এবং শিল্পজগতের সদস্যরা তার এই অর্জনকে উদযাপন করছেন, আশা প্রকাশ করছেন যে তিনি ইন্ডি সিনেমার নতুন দিগন্তে আরও সাফল্য অর্জন করবেন।



