২০২৬ সালের ফিল্ম ইন্ডিপেনডেন্ট স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডস রবিবার সন্ধ্যায় হলিউড প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো সমুদ্রতীরের বদলে শহুরে ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি ৪০ বছর ধরে সান্তা মনিকার সমুদ্রতীরের টেন্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই পরিবর্তন দেখেছে।
প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার অনুষ্ঠানটি হলিউড প্যালাডিয়ামে ফিরে এসেছে, যেখানে ১৯৯৩ সালে আটম সংস্করণ থেকে টেন্টে সমুদ্রতীরের পাশে অনুষ্ঠিত হয় এবং একমাত্র নয়ম সংস্করণই এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের হোস্ট এগো এনওডিম তার উদ্বোধনী মনোলগে উপস্থিতদের হাসি ফোটাতে গিয়ে জানিয়েছেন, পারমিটের অভাবে সবাইকে সতর্ক ও স্বাভাবিকভাবে চলতে হবে। তিনি ক্যামেরা বন্ধ করার সংকেত দিলে দর্শকদের দ্রুত ছড়িয়ে বসতে এবং বাসের অপেক্ষা করার ভান করতে বলেছিলেন, যা তার মতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ভূমিকা হতে পারে।
এগো এনওডিম আরও উল্লেখ করেন যে, প্যালাডিয়ামের ভেতরে থাকা খরচ সমুদ্রতীরের টেন্টের সমান, তবে তারা সম্পূর্ণভাবে জলতীরের পরিবেশ হারাতে চাননি। তাই তিনি “দ্য প্লেগ” ছবির কিছু চরিত্রকে মঞ্চে আনার কথা বলেন, তবে দর্শকদের কাছ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেন, কারণ তারা “এক ইঞ্চি দূরত্বেও আপনাকে তাড়া করবে”।
“দ্য প্লেগ” একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, যা জলপোলো ক্যাম্পে সেট করা এবং স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডসে তিনটি বিভাগে মনোনীত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রের উপস্থিতি নতুন ভেন্যুতে সমুদ্রতীরের অনুভূতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হয়।
স্থানান্তরের পেছনে লস এঞ্জেলেসের ২০২৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের প্রস্তুতি উল্লেখ করা হয়েছে। শহরের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করার প্রয়োজনীয়তা এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে, যদিও এই পরিবর্তনটি সাময়িক নাকি স্থায়ী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ব্রেন্ডা রবিন্স, স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডসের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, ৪০ বছর উদযাপনের পর এই নতুন অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে সংগঠনটি বিশাল বৃদ্ধি ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং পুরস্কার অনুষ্ঠানকে পুনর্নির্মাণের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত।
অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, ফলে দর্শকরা বাড়ি থেকে লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণ এবং পারফরম্যান্স দেখতে পারবেন। পূর্বে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঘোষিত মনোনয়ন তালিকায় “দ্য প্লেগ” সহ অন্যান্য চলচ্চিত্রের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই বছরের স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডসের স্থানান্তর এবং হোস্টের রসিকতা শিল্পের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমুদ্রতীরের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশকে শহুরে ভেন্যুতে পুনর্নির্মাণের এই প্রচেষ্টা শিল্প জগতের পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটি উদাহরণ।
প্রতিটি চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং শিল্পের সমর্থককে এই অনন্য অনুষ্ঠানটি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে স্বাধীন চলচ্চিত্রের সাফল্য এবং শিল্পীদের সৃজনশীল প্রচেষ্টা সরাসরি অনুভব করা যায়।



