২০২৬ সালের ফিল্ম ইনডিপেনডেন্ট স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডসের রবিবারের অনুষ্ঠান শেষে, স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রথম স্ক্রিপ্ট বিভাগে লার্কার ‘বেস্ট ফার্স্ট স্ক্রিপ্ট’ পুরস্কার অর্জন করে। এই স্বীকৃতি লেখক‑নির্দেশক অ্যালেক্স রাসেলকে মঞ্চে নিয়ে আসে, যেখানে তিনি ইন্ডি সিনেমার ঝুঁকি গ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানাতে ব্যস্ত ছিলেন।
অ্যালেক্স রাসেল তার ভাষণে ইন্ডি চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তাদের মুখোমুখি হওয়া অনিশ্চয়তা ও সাহসিকতাকে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন চলচ্চিত্রের জন্য তহবিল, প্রচার বা কেবল একটি ইমেইল ফরোয়ার্ড করলেও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাসেল র্যাটাটুইল (২০০৭) ছবির একটি দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে খাবার সমালোচকের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন স্বরকে গ্রহণের ঝুঁকি বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সমালোচকের দায়িত্ব হল নতুন কণ্ঠস্বরকে সুযোগ দেওয়া, যদিও তা নিজেরা অযৌক্তিক বা অপ্রয়োজনীয় মনে করতে পারে।
ইন্ডি চলচ্চিত্রের প্রথম কাজের ক্ষেত্রে, অনেকেই র্যাটাটুইল‑এর সমালোচকের মতো ভূমিকা পালন করে নতুন পরিচালককে সুযোগ দেয়। তহবিলের ছোট অংশ, একটি ইমেইল, অথবা কেবল বিশ্বাসই কখনো কখনো বড় পরিবর্তন ঘটায়। রাসেল এ কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সমর্থনই নতুন চলচ্চিত্রকে বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যায়।
তিনি নিজের প্রথম চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি নিয়ে একটি স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্য করেন। “আমি কখনো ভাবিনি যে কেউ আমাকে তিন মিলিয়ন ডলার দেবে, যদিও আমি কোনো পরিচিতি ছাড়া এক অজানা ব্যক্তি।” এরপর তিনি উপলব্ধি করেন যে, সহায়করা তাকে প্রকৃতপক্ষে সুযোগ দিচ্ছেন, যা তার জন্য অমূল্য।
রাসেল সবসময়ই ইন্ডি চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তাদের জন্য যারা নিজেদেরকে ‘বোকা’ দেখাতে ভয় পান না, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের আত্মত্যাগই নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়।
র্যাটাটুইল ছবিটি একটি ছোট ইঁদুর রেমি সম্পর্কে, যে প্যারিসের গাস্টো রেস্তোরাঁয় শেফ হতে স্বপ্ন দেখে। এই অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রটি সর্বোচ্চ অ্যানিমেটেড ফিচার অস্কার জিতেছে এবং সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। রাসেল এই উদাহরণটি ব্যবহার করে ইন্ডি চলচ্চিত্রের ঝুঁকি ও পুরস্কারকে সমান্তরালভাবে উপস্থাপন করেন।
লার্কার এই সাফল্য একই ক্যাটেগরিতে অন্যান্য চলচ্চিত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ বছরের ‘বেস্ট ফার্স্ট স্ক্রিপ্ট’ বিভাগে অ্যান্ড্রু ডে-ইওর কাজও মনোনয়ন পেয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত লার্কারই জয়ী হয়।
একই অনুষ্ঠানে ‘সরি, বেবি’ চলচ্চিত্রটি সর্বোত্তম স্ক্রিপ্টের পুরস্কার জিতেছে, এবং প্রথমবারের পরিচালক ইভা ভিক্টর উল্লেখ করেন যে তিনি কেবল স্বাধীনভাবে কাজ করতে পেরেছেন। এছাড়া, ইগো নওডিম চেরের গ্র্যামি ফ্লাব নিয়ে মজার মন্তব্য করেন এবং স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডসের মোনোলগে ‘হৃদয়বিদারক সময়’ নিয়ে আলোচনা করেন।
এই পুরস্কারগুলো ইন্ডি চলচ্চিত্রের পরিবেশে নতুন স্বর ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন পরিচালকরা যখন প্রথম পদক্ষেপ নেয়, তখন সমর্থনকারী বিনিয়োগকারী, প্রযোজক এবং এমনকি একক ইমেইল পাঠানো ব্যক্তিরাও তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের সোপান হয়ে ওঠে।
অ্যালেক্স রাসেল শেষ পর্যন্ত ইন্ডি চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎকে আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি সকলকে আহ্বান জানান যে, নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক হয়ে, ইন্ডি সিনেমার সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য বজায় রাখা সম্ভব। এই ধরনের সমর্থনই আগামী প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য পথপ্রদর্শক হবে।



