স্ট্র্যাঞ্জ থিংসের তরুণ অভিনেত্রী মায়া হক এবং গায়ক-গীতিকার ক্রিস্টিয়ান লি হাটসন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে-তে নিউ ইয়র্কের সেন্ট জর্জ’স এপিসকোপাল চার্চে গোপনীয়ভাবে বর্ণময় শপথবদ্ধ হন। ২৭ বছর বয়সী হক এবং ৩৫ বছর বয়সী হাটসন এই বিশেষ দিনটি তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বিবাহের অনুষ্ঠানে মায়া সাদা গাউন পরিধান করেন, যার সঙ্গে শীতের পাখা-সদৃশ কোটের সংযোজন তাকে আলাদা করে তুলেছিল। অন্যদিকে হাটসন ক্লাসিক কালো-সাদা টাক্সেডোতে উপস্থিত হয়ে শোভা যোগিয়ে ছিলেন। উভয়ের পোশাকের সরলতা ও পরিশীলিততা অনুষ্ঠানের মর্যাদা বাড়িয়ে তুলেছিল।
বিবাহে মায়ার পরিচিতি-পরিচিতি উপস্থিত ছিলেন; তার বাবা-ইথান হক ও মা-উমা থারম্যান উভয়েই শোভা যোগিয়েছেন। এছাড়া স্ট্র্যাঞ্জ থিংসের সহ-অভিনেতা ফিন ওলফহার্ড, গেটেন মাতারাজ্জো, ক্যালেব ম্যাকলফ্লিন, সেডি সিংক, নাতালিয়া ডায়ার, চার্লি হিটন এবং জো কেরি সহ বেশ কয়েকজন কাস্টমেট উপস্থিত ছিলেন।
বিবাহের পর দম্পতি ও অতিথিরা ম্যানহাটনের দ্য প্লেয়ার্স মেম্বারস ক্লাবে রিসেপশন উদযাপন করেন। এই ঐতিহাসিক ক্লাবের অভ্যন্তরে সঙ্গীত, নৃত্য এবং শুভেচ্ছা বিনিময় হয়, যা অনুষ্ঠানের রোমান্সকে আরও গভীর করে তুলেছিল।
মায়া ও ক্রিস্টিয়ানের রোমান্সের সূচনা ২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কে দেখা গিয়েছিল, যখন তারা প্রথমে একে অপরকে চুম্বন করতে দেখা গিয়েছিল। দুজনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গড়ে উঠে, এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বুথ থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ব্রডওয়ে নাটক “জন প্রোকার ইজ দ্য ভিলেন” এর উদ্বোধনী রেড কার্পেটে তারা একসাথে উপস্থিত হন।
হাটসন তিনটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন, যেগুলোতে ফোবে ব্রিজারসের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার ছোঁয়া রয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের “পারাডাইস পপ.১০” অ্যালবামের “ক্যারোসেল হর্সেস” ট্র্যাকের সৃষ্টিতে ব্রিজারসের সঙ্গে কাজ করেছেন, এবং সেই সময়ে মায়ার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রকাশ পায়।
দম্পতি প্রথমে সঙ্গীত প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচিত হন; হাটসন ২০২২-২০২৩ সালে ব্রিজারসের ট্যুরে সমর্থনকারী হিসেবে অংশ নেন এবং মায়ার ২০২৪ সালের “কাওস এঞ্জেল” অ্যালবামে অবদান রাখেন। এই সহযোগিতা তাদের পারস্পরিক শিল্পী সম্পর্ককে দৃঢ় করে এবং পরবর্তীতে রোমান্টিক বন্ধনে রূপান্তরিত হয়।
ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ হাটসন ইনস্টাগ্রামে ভ্যালেন্টাইন ডে’র ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তিনি মায়ার সঙ্গে সোফায় বসে আছেন। ক্যাপশনে তিনি মায়ার নতুন রেকর্ডের প্রথম গানটির প্রশংসা করে লিখেছিলেন, “এই গানটি আমি খুবই পছন্দ করি, পুরো অ্যালবামটি শোনার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না।” এই পোস্টটি দুজনের প্রেমের প্রকাশের একটি আরেকটি নিদর্শন হয়ে দাঁড়ায়।
মায়া হক ও ক্রিস্টিয়ান লি হাটসনের এই অপ্রত্যাশিত বিবাহ উভয় শিল্পক্ষেত্রের ভক্তদের জন্য আনন্দের সংবাদ নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে দুজনের সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র প্রকল্পে কী ধরনের সমন্বয় দেখা যাবে, তা নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ছে।



