20 C
Dhaka
Monday, February 16, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য নতুন সরকারের পদক্ষেপের প্রয়োজন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য নতুন সরকারের পদক্ষেপের প্রয়োজন

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সরকারের গঠন প্রত্যাশা বাড়ছে, তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি গভীর অস্থিরতার মুখে। নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার।

প্রায় সতেরো বছর পর দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু হয়েছে, এবং ১৩তম জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল। নতুন সরকার গঠনের দায়িত্বে রয়েছে তরুণ নেতা তারেক রহমান, যাকে বহু নাগরিক নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রত্যাশা করছেন।

তরেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে আইনের শাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জাতীয় ঐক্য পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে নতুন সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জাতিসংঘের দৃষ্টিতে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.৫৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা ডিসেম্বর মাসে ৬.১০ শতাংশে নেমে আসে এবং চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। এই হ্রাস ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাহিদা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

একই সময়কালে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সরাসরি নিট বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ ১.৪১ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ হয়েছে, যা পূর্বাভাসের চেয়ে কম। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষয় করেছে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বিবিএসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের কাছাকাছি স্তরে স্থিত হয়েছে, যা দেশের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রধান কারণ। বাস্তব আয় কয়েক বছর ধরে বৃদ্ধি পায়নি, এবং কিছু গোষ্ঠীর আয় এমনকি হ্রাস পেয়েছে।

জুলাই মাসে ঘটিত আন্দোলনের পর বিপুল সংখ্যক কর্মী বেকার হয়ে পড়েছে, যা শ্রমবাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বেকারত্বের এই বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির সমন্বয় গৃহস্থালীর ব্যয়ভার বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রাক্তন প্রধান অর্থনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন যে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগের হ্রাসের ফলে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতিতে এগোচ্ছে, এবং তা দ্রুত ও দৃঢ় নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ত্বরান্বিত করা দরকার।

সামগ্রিকভাবে, নতুন সরকারকে আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ঋণ প্রবাহ বাড়ানো, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৎপর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো না নিলে স্বল্পোন্নত তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments