ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে নিজের নাম প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তিনি সরাসরি গণমাধ্যমের সামনে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে দেশের শীর্ষস্থানীয় পৌরসভার শূন্যস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা জানিয়েছেন।
প্রকাশের পরপরই জাবেরের বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজের প্রার্থীতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রার্থিতার খবর প্রথমে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে জানিয়ে দেন। তিনি জাবেরের নাম উল্লেখ করে মঞ্চের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে নতুন শক্তি যোগ হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
আবদুল্লাহ আল জাবেরের রাজনৈতিক সক্রিয়তা জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় থেকে স্পষ্ট। ঐ সময়ের উত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নিজের আদর্শগত ভিত্তি গড়ে তোলেন এবং পরে গঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চে সদস্য সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মূল লক্ষ্য হল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করা এবং ন্যায়বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনকে এগিয়ে নেওয়া। জাবের এই সংগঠনের মধ্যে তার নেতৃত্বের ভূমিকা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শরীফ ওসমান বিন হাদি, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-০৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। হাদির রাজনৈতিক পথচলা বহুবার ঝুঁকির মুখে পড়ে, বিশেষ করে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হামলাকারীদের আক্রমণে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
আঘাতের পর হাদি সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯:৪৫ মিনিটে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের মধ্যে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সংগঠনের আদর্শিক দিককে আরও দৃঢ় করার প্রেরণা যোগায়।
আবদুল্লাহ আল জাবেরের মেয়র প্রার্থিতার মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণের পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হয়েছে। পূর্বে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল ও স্বাধীন প্রার্থীরা এই সিটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তবে জাবেরের যোগদানের ফলে ভোটারদের পছন্দের পরিসর বিস্তৃত হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে কিছু মন্তব্য শোনা যায়। কিছু বিশ্লেষক জাবেরের অভিজ্ঞতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আদর্শকে ভোটারদের কাছে নতুন বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করছেন, অন্যদিকে কিছু দল তার রাজনৈতিক পটভূমি ও সংগঠনের সংযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আসন্ন সপ্তাহগুলোতে জাবেরের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তার প্রচারাভিযান কীভাবে গঠন করা হবে, কোন নীতি অগ্রাধিকার পাবে এবং ভোটারদের সঙ্গে কীভাবে সংযোগ স্থাপন করবে, এসব বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য প্রচারমূলক কার্যক্রম বাড়িয়ে তুলবে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা দক্ষিণের নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বিভিন্ন প্রার্থীর নীতি ও পরিকল্পনা তুলনা করা এবং ভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশগ্রহণ করা। জাবেরের প্রার্থীতা এক নতুন রাজনৈতিক গতিবিধি সূচনা করতে পারে, তবে শেষ ফলাফল ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



