ইন্দোনেশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা এডউইন বার্লিনের স্পেশাল মিডনাইট সেকশনে নতুন কাজ ‘স্লিপ নো মোর’ উপস্থাপন করছেন। এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে হরর-কমেডি শৈলীর মাধ্যমে পুঁজিবাদের সমালোচনা করা ছবিটি দর্শকদের সামনে এসেছে। ছবির পটভূমি একটি পুরনো উইগ ফ্যাক্টরি, যেখানে শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং শোষণমূলক তত্ত্বাবধায়কের প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এডউইন পূর্বে ২০১২ সালে ‘পোস্টকার্ডস ফ্রম দ্য জু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বার্লিন ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেন এবং এশিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে এডওয়ার্ড ইয়াং নিউ ট্যালেন্ট পুরস্কার অর্জন করেন। তার কাজগুলো আধুনিক জীবনের অদ্ভুততা ও ব্যঙ্গাত্মক দিকগুলোকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরার জন্য পরিচিত।
‘স্লিপ নো মোর’ তার ক্যারিয়ারের প্রথম হরর-কমেডি প্রকল্প, যেখানে তিনি জর্ডান পিলের শৈলীর প্রভাব স্বীকার করেছেন। পিলের মতোই এডউইন হররকে শুধুমাত্র ভয় দেখানোর মাধ্যম নয়, বরং সামাজিক সমালোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
নির্দেশকের মতে, তিনি আগে কখনো হরর ঘরানার সঙ্গে কাজ করেননি, তাই এইবার তিনি প্রচলিত ভূত-ভিত্তিক হরর থেকে দূরে গিয়ে ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হরর এবং কমেডির পার্থক্য মূলত সাউন্ড ও সঙ্গীতের ব্যবহারে, তাই দুটোকে একসাথে মেশানো স্বাভাবিক মনে হয়েছে।
চিত্রটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত উইগ ফ্যাক্টরির ভিতরে ঘটছে, যেখানে শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য হয়। তাদের উপর কাজের চাপ বাড়াতে তত্ত্বাবধায়ক এক মহিলা কর্মীকে শোষণমূলক প্রণোদনা ব্যবহার করে। শ্রমিকদের ক্লান্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত ও অশুভ কিছু ঘটতে শুরু করে।
ফ্যাক্টরির অন্ধকার কোণগুলোতে গোপনীয়তা ও ভয়াবহতার মিশ্রণ দেখা যায়, যা হররের মূল সত্তা বজায় রাখে। একই সঙ্গে, অপ্রত্যাশিত হাস্যরসের ছোঁয়া ছবিটিকে এক অনন্য স্বাদ দেয়, যা দর্শকের মনোযোগকে তীক্ষ্ণ করে।
এডউইন উল্লেখ করেন, পুঁজিবাদী সমাজের অন্ধ অনুসরণকে ব্যঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, হরর এবং কমেডি একসাথে মিশিয়ে সামাজিক সমস্যাগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা যায়।
‘স্লিপ নো মোর’ ছবিতে শ্রমিকদের শোষণমূলক কাজের পরিবেশকে কেন্দ্র করে একটি রূপক উপস্থাপন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়কের কৌশলগত প্রণোদনা এবং শ্রমিকদের ক্লান্তি একসঙ্গে একটি অশুভ শক্তি উদ্ভব করে, যা চলচ্চিত্রের মূল কাহিনীর চালিকা শক্তি।
ফিল্মের ভিজ্যুয়াল স্টাইল পুরনো ফ্যাক্টরির ধোঁয়াটে আলো, গন্ধযুক্ত চুলের পাত্র এবং ম্যানিকিনের শূন্য দৃষ্টির মাধ্যমে গাঢ় পরিবেশ তৈরি করে। এই দৃশ্যগুলো হররের তীব্রতা বাড়ায় এবং একই সঙ্গে অপ্রত্যাশিত হাস্যরসের মুহূর্তে দর্শকের মনোভাবকে হালকা করে।
বার্লিনের ফেস্টিভ্যালে এই কাজটি বিশেষ মিডনাইট স্লটের মাধ্যমে উপস্থাপিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমীরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে দেখছেন। হরর-কমেডি ঘরানার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং পুঁজিবাদী সমালোচনা দুটোই একসঙ্গে উপস্থাপন করা এই চলচ্চিত্রকে আলাদা করে তুলেছে।
এডউইনের ‘স্লিপ নো মোর’ হরর এবং সামাজিক ব্যঙ্গের মিশ্রণ হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আধুনিক শ্রমিকের অবস্থান এবং পুঁজিবাদের অন্ধ অনুসরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান।
বিনোদন অনুষদের পাঠকরা যদি হরর-কমেডি ঘরানার নতুন স্বাদ এবং সামাজিক সমালোচনার মিশ্রণ উপভোগ করতে চান, তবে বার্লিনের স্পেশাল মিডনাইট সেকশনে এই ছবিটি মিস করা উচিত নয়।



