ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় রোববার সাংবাদিকদের সমাবেশে জামায়াতের নায়েব আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের তৃতীয় জাতীয় সংসদে দলকে “শক্তিশালী বিরোধী দল” হিসেবে অবস্থান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
তাহেরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের গঠনমূলক কাজের জন্য সহযোগিতা করা উচিত, এটাই তার মূল আহ্বান।
বেসামরিক আলোচনার সময় তিনি উল্লেখ করেন, যদি দলগুলোর মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দেয়, তবে তা শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এ ধরনের পদ্ধতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই সমাবেশের আগে জামায়াতের নায়েব শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সৌজন্যপূর্ণ সাক্ষাৎ হয়। দুজন নেতা বসুন্ধরায় জামায়াতের নায়েবের বাসভবনে একত্রিত হন এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারের সময় তারেক রহমান তৃতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনকারী বিএনপির সরকার গঠনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান। তিনি জামায়াতের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে পারে।
বসুন্ধরায় জামায়াতের নায়েবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াতের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি দুই দলের মধ্যে সমন্বয়ের ইচ্ছা আরও দৃঢ় করেছে।
তাহেরের মতে, দু’দলই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনমূলক কাজের জন্য একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের সমন্বয় দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
এদিকে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে; মোট ২৯৭ আসন নির্ধারিত, যার মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াত ৬৮টি জয়লাভ করেছে। অবশিষ্ট আসনগুলো অন্যান্য দল ও স্বাধীন প্রার্থীর মধ্যে বিতরণ হয়েছে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নেবে এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতি নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জামায়াতের নায়েবের এই মন্তব্য এবং বিএনপির সঙ্গে সম্ভাব্য সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। উভয় দলই যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে।
তবে এখনও স্পষ্ট নয় যে, এই সমন্বয় কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং কোন শর্তে দুই দল একে অপরের সঙ্গে কাজ করবে। রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন এবং নির্বাচনের ফলাফলই ভবিষ্যতে এই সম্পর্কের দিক নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, জামায়াতের নায়েবের প্রকাশিত ইচ্ছা এবং বিএনপির সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা দেশের রাজনৈতিক সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন দিক নির্দেশ করে। আগামী শপথ অনুষ্ঠানের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় এই দুই দলের ভূমিকা কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



