গ্রুপ এ ম্যাচে রে প্রিমাদাস স্টেডিয়ামে ভারত এ ৬১ রনের পার্থক্যে পাকিস্তানকে পরাজিত করে টুইনটি২০ বিশ্বকাপের সুপার আট পর্যায়ে স্থান নিশ্চিত করেছে। ইশান কিশানের দ্রুতগতির ৭৭ রান ভারত একে ১৭৫-৭ স্কোরে স্থাপন করেছে, যা টার্গেট চ্যালেঞ্জকে কঠিন করে তুলেছে। ফলস্বরূপ পাকিস্তান ১৮ ওভারে ১১৪ রান করে আটকে গিয়েছে এবং তৃতীয় ধারাবাহিক জয় অর্জন করেছে।
ইশান কিশান মাত্র ২৭ বলে দুই ধারাবাহিক অর্ধশতক পূরণ করে দলের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করেন। তার আক্রমণাত্মক শটগুলো পাকিস্তানের স্পিনারদের সীমাবদ্ধতা ভেঙে দেয় এবং দ্রুত রানের প্রবাহ বজায় রাখে। কিশানের পর সাইম আয়ুবের ছোট আউটিং শেষ হলে ভারত এ ৯২-২ স্কোরে অর্ধেকের চেয়ে একটু বেশি পৌঁছায়।
অবিসেক শর্মা স্টমাক ইনফেকশনের কারণে প্রথম দুই ম্যাচ মিস করার পর এই ম্যাচে ফিরে এসে ওপেনার হিসেবে খেলেন, তবে তিনি শীঘ্রই সালমানের লব্বো-ওয়াইডের মাধ্যমে আউট হন। শর্মার প্রারম্ভিক প্রস্থান ভারত একে মাঝারি শুরুর ঝুঁকি দিলেও কিশানের আক্রমণ তা পূরণ করে। শর্মার অল্প সময়ের উপস্থিতি দলের মোট স্কোরে বড় প্রভাব ফেলেনি।
পাকিস্তান প্রথম ওভারে তিনজন স্পিনার ব্যবহার করে রানের প্রবাহ ধীর করার চেষ্টা করে, যার ফলে ছয় ওভারের শেষে ভারত এ ৫২-১ স্কোরে দাঁড়ায়। তবে কিশানের আক্রমণাত্মক পদ্ধতি এই কৌশলকে সীমিত করতে ব্যর্থ হয়। পাকিস্তানের স্পিনাররা মাঝারি গতি ও পরিবর্তনশীল লাইন দিয়ে রানের গতি কমাতে চেয়েছিল, কিন্তু কিশানের আক্রমণ তা ভেঙে দেয়।
ইশান কিশানের আক্রমণ মাঝখানে থেমে না গিয়ে তিনি ৪০ বলের মধ্যে ৪০ রান যোগ করেন, যা দলের মোট স্কোরকে দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। সাইম আয়ুবের সঠিক বলের মাধ্যমে তিলক ভারমা (২৫) এবং হার্দিক পাণ্ড্যকে ধারাবাহিকভাবে আউট করে ভারত একে আবার চাপের মধ্যে নিয়ে আসে। আয়ুবের ৩ উইকেটের পারফরম্যান্স পাকিস্তানের ব্যাটিংকে আরও কঠিন করে তোলে।
সুর্যকুমার যাদব এবং শিবম ডুবে শেষ ওভারে কিছুটা দ্রুত রানের চেষ্টা করেন, তবে তাদের সম্মিলিত স্কোর ২০০ রনের সীমা অতিক্রম করতে পারে না। যাদব ৩২ রান এবং ডুবে ২৭ রান যোগ করে দলকে শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীল রাখে। তবে তাদের আউটিংয়ের গতি টার্গেট পৌঁছাতে যথেষ্ট না হয়ে দলকে ১৭৫ রনে থামিয়ে দেয়।
পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে সালমান নিজে ওপেনার হয়ে প্রথম বলেই অবিসেক শর্মাকে লব্বো-ওয়াইডে আউট করেন, যা শুরুরই বড় ধাক্কা ছিল। পাকিস্তান শীঘ্রই ছয়টি স্পিনার ব্যবহার করে ভারত একে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করে, ফলে তারা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম দল হয়ে ছয়জন স্পিনারকে এক ম্যাচে ব্যবহার করে। তবে এই কৌশল শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই সীমাবদ্ধ থাকে।
ফলস্বরূপ ভারত এ সুপার আট পর্যায়ে অগ্রসর হয়েছে এবং পরবর্তী ম্যাচে গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় দলটির মুখোমুখি হবে। পাকিস্তান তৃতীয় ধারাবাহিক জয় সত্ত্বেও গ্রুপে অগ্রগতি করতে পারেনি। এই ফলাফল টুইনটি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং পরবর্তী রাউন্ডের জন্য উভয় দলের প্রস্তুতি আরও কঠোর করবে।



