নিউজিল্যান্ডের নারী ক্রিকেট দলের ওডিআই ও টি২০ উভয় ফরমের নতুন ক্যাপ্টেন হিসেবে ২৫ বছর বয়সী অ্যামেলিয়া কেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত করা হয়েছে। কের, যিনি ২০১৬ সালে মাত্র ষোলো বছর বয়সে আন্তর্জাতিক মঞ্চে पदार্পণ করেন, এখন পুরো দলকে নেতৃত্ব দেবেন। তার এই দায়িত্ব গ্রহণের খবর ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পূর্বে দলকে নেতৃত্ব দিতেন সোফি ডেভিন, যিনি অক্টোবর ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত ICC নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর ক্যাপ্টেনশিপ থেকে সরে যান। ডেভিনের পদত্যাগের পর কেরকে নতুন দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়।
ক্যাপ্টেনশিপে ওঠার আগে কেরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০১৬ সালে ১৬ বছর বয়সে প্রথম ম্যাচে অংশ নেন এবং তখন থেকে ১৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামেন।
এই সময়কালে তিনি মোট ৩,৭৫৭ রান সংগ্রহ করেছেন এবং সব ফরমে ২০১টি উইকেট নেন। তার ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে বহু গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছে।
ক্যাপ্টেনশিপের আগে কের দুইটি ওডিআই এবং দুইটি টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও তার নেতৃত্বের সুযোগ সীমিত ছিল, তবে সেই অভিজ্ঞতা তাকে পূর্ণ সময়ের দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করেছে।
নতুন দায়িত্বে কের ওডিআই ও টি২০ উভয় দলে পূর্ণকালীন ক্যাপ্টেন হবেন। এর ফলে তিনি কৌশলগত পরিকল্পনা, মাঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলের মনোবল গড়ে তোলার দায়িত্ব একসঙ্গে নেবেন।
ক্যাপ্টেনশিপের এই পরিবর্তনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তিন বছরের সময়সীমার সূচনা নির্দেশ করে। কেরের নেতৃত্বে দলকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
একজন অল-রাউন্ডার হিসেবে কেরের ব্যাটিং গড় এবং বোলিং গতি দলকে ভারসাম্যপূর্ণ করে। তার উপস্থিতি মিডল অর্ডারকে স্থিতিশীল করে এবং শেষ ওভারেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিতে সক্ষম।
দলীয় গঠন ও কৌশলে কেরের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশিত। তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নত করতে মনোযোগ দেবেন।
ক্যাপ্টেনশিপের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে কেরের লক্ষ্য স্পষ্ট: দলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচে আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ি বজায় রাখা। তার নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের নারী ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় শীর্ষে ফিরে আসতে চায়।
ক্যাপ্টেন হিসেবে কেরের প্রথম কাজ হবে আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণ। তিনি দলের প্রশিক্ষণ সেশন, বিশ্লেষণ সভা এবং ম্যাচের পূর্বে ট্যাকটিক্যাল ব্রিফিং পরিচালনা করবেন।
ক্যাপ্টেনশিপের এই নতুন অধ্যায়ে কেরের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিউজিল্যান্ডের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তার দায়িত্বের সফলতা দলকে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ক্যাপ্টেনশিপের পাশাপাশি কের তার ব্যক্তিগত জীবনেও সমান গুরুত্ব দেন। তিনি নিয়মিত ফিটনেস রুটিন অনুসরণ করেন এবং মানসিক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেন, যা তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মূল চাবিকাঠি।
প্রশংসক ও সমর্থকরা কেরের এই পদোন্নয়কে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তার নেতৃত্বে দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে দেখার আশা প্রকাশ করেছেন।



