ঢাকা শহরের ধানমন্ডি-৩২-এ আজ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান অধ্যাপক এ.কে.এম. জামাল উদ্দিনের সঙ্গে গাছফুল দান করতে গিয়ে তিনজনকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাটি বিকেল চারটায় ঘটেছে, যখন অধ্যাপক ও তার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাসভবনে গমন করেন। গোষ্ঠীটি গাছফুল অর্পণ করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত ছিল, তবে উপস্থিতি নিয়ে ভিড়ের উত্তেজনা বাড়ার পর পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের ফেসবুক পোস্টে তিনি বিকেল চারটায় ধানমন্ডি-৩২-এ গিয়ে “আমার চোখের জল ও শ্রদ্ধা অর্পণ” করার পরিকল্পনা জানিয়ে অন্যদেরও দলবদ্ধভাবে যোগ দিতে আহ্বান জানান। পোস্টে তিনি বাসভবনের অবস্থা ও তার প্রতি সম্মান জানাতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সেই অনুযায়ী, বিকেল চারটায় অধ্যাপক জামাল ও তার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি বাসভবনের দিকে রওনা হন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই পুলিশ উপস্থিত হয়ে গোষ্ঠীকে থামিয়ে নেয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, যেখানে পুলিশ গোষ্ঠীর সদস্যদের জোরে গাড়িতে চেপে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার জিসানুল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মন্তব্য করেন, “কোনো শিক্ষককে আটক করা হয়নি; ভিড়ের উত্তেজনা থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয় এবং পরে মুক্তি দেওয়া হয়।” তিনি আরও জানান, “তবে তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যারা নিজেদেরকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছেন।”
অধিকাংশ গোষ্ঠীর সদস্যের পরিচয় স্পষ্ট না হলেও, পুলিশ তাদের নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করে আটক করেছে। আটককৃত তিনজনের নাম ও পটভূমি প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাদের সংগঠনগত সংযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চালু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ঘটনাটির পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়, যেখানে কিছু মানুষ গাছফুল দানের অধিকারকে সমর্থন করে, আবার অন্যরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তবে কোনো পক্ষই ঘটনাটিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের দৃষ্টিতে দেখেনি, বরং আইনগত প্রয়োগের স্বাভাবিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যে ধর্মীয় ও জাতীয় নেতাদের স্মরণে গাছফুল দান করা একটি সংবেদনশীল বিষয়, যা জনমত গঠনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে এমন স্মরণীয় কার্যক্রমের প্রতি সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে কী হবে, তা নজরে থাকবে।
পুলিশের হস্তক্ষেপের পদ্ধতি ও আটককৃতদের পরিচয় নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের মন্তব্য অনুসারে, আটককৃতদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তদন্ত চলমান, এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ধানমন্ডি-৩২-এ গাছফুল দানের উদ্দেশ্যে গৃহীত এই পদক্ষেপটি নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় স্মৃতির সংরক্ষণে সরকারের অবস্থানকে প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের স্মরণীয় কার্যক্রমে কী ধরনের অনুমতি ও নিয়মাবলী প্রয়োগ হবে, তা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।



