১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে গুলশানের চেয়ারম্যানের অফিসের সামনে একত্রিত শ্রোতাদের সামনে লক্ষ্মীপুর‑৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত তার মতামত জানিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও শপথ গ্রহণের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হবে।
এ্যানী চৌধুরী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু স্থানীয় অশান্তি দেখা গেছে, তবে তা শপথের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে না এবং শপথের পর অবিলম্বে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধান একক ব্যক্তির অধীনে থাকা শর্তটি বিএনপির মূল দাবি এবং শপথের আগেই এই শর্তের বাস্তবায়ন সম্পর্কে দল স্পষ্টতা দেবে। এই বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
শপথের সময়সূচি নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি তাঙ্গাইল‑৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুরের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। টুকুরের তত্ত্বাবধানে সকল প্রস্তুতি তদারকি করা হচ্ছে এবং কোনো ধরণের বাধা না থাকায় শপথের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অংশগ্রহণকারীর তালিকা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা এ্যানীর উল্লেখিত শর্তের প্রাসঙ্গিকতা ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে মতবিনিময় করেন এবং শপথের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপি দলীয় নেতৃত্বের মতে, শপথের আগে সরকারকে এই শর্তের ব্যাপারে স্পষ্টতা দিতে হবে, যাতে শপথের পর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়। এ্যানী চৌধুরী বলেন, সরকার ও দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে শপথের দিন কোনো অশান্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।
শপথের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে এই আশাবাদী মন্তব্যের সঙ্গে তিনি যোগ করেন, শপথের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক পথে ফিরে আসবে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সরকার প্রধান ও দলীয় প্রধানের এককত্বের বিরোধিতা করে আসছে, যা তারা গণতান্ত্রিক শাসনের স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করে। এ্যানী চৌধুরী এই দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, শপথের আগে এই বিষয়টি পরিষ্কার না হলে ভবিষ্যতে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শপথের সফল সম্পন্ন হওয়া পরবর্তী সংসদীয় সেশন এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। শপথের পর আইনশৃঙ্খলা উন্নতি হলে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্যই কাজের পরিবেশ সহজ হবে।
বিএনপি দলীয় নেতৃত্ব শপথের পরপরই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রাখবে। এ্যানী চৌধুরী উল্লেখ করেন, শপথের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দলীয় ও সরকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।
এই সমন্বয়মূলক উদ্যোগগুলো শপথের দিন কোনো অশান্তি না ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



